বিজ্ঞাপন

‘ধান উৎপাদন বেশি হওয়ায় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে’

September 12, 2019 | 7:51 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: আগে ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলেও এখন উৎপাদন বেশি হওয়ায় তা সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এখন উভয় সংকট হয়ে গেছে। আগে ধানের উৎপাদন কম হলে দুর্ভিক্ষ হতো, এখন উৎপাদন বেশি হওয়ায় তা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

এসময় দেশের কৃষি ব্যবস্থায় যান্ত্রিকীকরণের প্রত্যয় জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধান কাটা ও ধান লাগানোর জন্য মেশিন কেনার ক্ষেত্রে সরকার উৎস্য মূল্যে ভর্তুকি দেবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরেই গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবু জাহিরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সার-বীজ নিয়ে দুর্নীতির কারণে দেশে ফসলের উৎপাদন কমে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কৃষিমন্ত্রী। বিপরীতে আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই সার ও বীজ বিতরণের সহজ ও স্বাভাবিক পদ্ধতি চালু করায় বাংলাদেশ বিশ্বে ফসল উৎপাদনে বিস্ময় হিসেবে হাজির হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির দুই মেয়াদে সার নিয়ে অস্বাভাবিক দুর্নীতির কারণে ফসল উৎপাদন কমে গিয়েছিল। ১৯৯৫ সালে সারের দাবি জানালে ১৮ জন কৃষককে হত্যা করা হয়। এরপর আবার ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে তাদের মেয়াদের ওই পাঁচ বছরেই সারের সংকট ছিল।

মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ওই সময়ের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সারের দাম কমানোর এজেন্ডা এনেছিলেন। তখন সারের দাম কমানো হয়। বিএনপির আমলের ৭২ টাকার টিএসপি কমিয়ে ২২ টাকা, ৯০ টাকার ডিএসপি কমিয়ে ২৫ টাকা, ৬০ টাকার পটাশ কমিয়ে ১৫ টাকা করা হয়। এখনও সেই ১৫ টাকাতেই সার বিক্রি হচ্ছে। আমরা এক পয়সাও সারের দাম বাড়াইনি।

কৃষক ঠিকমতো সার-বীজ পাচ্ছে বলেই উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সার-বীজ বিতরণের সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের যারা যুক্ত, তারা এখন যথেষ্ট সতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী প্রতারণা করে। আমি বলব, প্রতারণা অনেক কমে গেছে। ফলে কৃষক ঠিকমতো সার ও বীজ পাচ্ছে, উৎপাদন বেড়েছে। গত মৌসুমে আমাদের ধান উৎপাদনের টার্গেট ছিলো ১ কোটি ৪০ লাখ টন, উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ টন। ছোটখাটো কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি হতে পারে, ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে এটা করতে পারে। তবে সারাদেশে স্বাভাবিকভাবেই সার-বীজ বিতরণে হচ্ছে বলেই উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশও ফসল উৎপাদনে বিশ্বের বুকে বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধানের দাম বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এবার প্রায় ৪ লাখ টন ধান সরাসরি কেনা হয়েছে। আগামীতেও চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশে টিম যাবে, তারা দেখবেন সত্যিকারের চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে কি না। যদি না হয় তাহলে জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন