বুধবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

বাংলাদেশের কলা সবচেয়ে মজাদার: জার্মান ব্যবসায়ী

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯ | ৮:১১ অপরাহ্ণ

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘বাংলাদেশের কলা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মজাদার কলা। আবার বাংলাদেশের আম খুবই সুস্বাদু। কিন্তু সঠিক বিপনন ব্যবস্থা না থাকায় এবং বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় বাংলাদেশের আম শুধু ব্রিটেনে রফতানি করা হয়। অথচ বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্য বা ফল সরবরাহ চেইন সৃষ্টি করতে পারে তবে এই কলা-আম দিয়েই অর্থনীতিতে অনেক উন্নতি করা সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতি এবং বাণিজ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন জার্মান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের প্রধান পিটার ক্লাসেন।

ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে জার্মানির ২৩ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল গত ৮ থেকে১২ সেপ্টম্বর বাংলাদেশ সফর করেন। বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে জার্মানির ওই ব্যবসায়ী দলটি বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে গণমাধ্যমের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এমন সময় বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

জার্মানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের প্রধান পিটার ক্লাসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যত উন্নতি নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। অর্থনৈতিক খাতে এ দেশের চমৎকার উন্নতি করার সুযোগ আছে। এই দেশকে উন্নত করতে বাংলাদেশ সরকারের সদিচ্ছা এবং সরকারের শক্তিশালি মনোবল রয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হার ঈষর্ণীয় পর্যায়ে পৌঁছতে পেরেছে, যা এশিয়ায় চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনশক্তি। এই জনশক্তিকে দক্ষভাবে গড়তে পারলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির শিখরে পৌছবে। এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে বাংলাদেশের মতো এতো বিশাল জনশক্তি নেই। আমি গতকাল (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ইপিজেড (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) পরিদর্শন করেছি। একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জানান, তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গড়ে গত ২৫ বছর ধরে তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। এমন আস্থাশীল কর্মী বাহিনী থাকলে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হবেই।’

আরও পড়ুন: দেশে ব্যবসাবান্ধব সহজ পরিবেশ চান জার্মানির ব্যবসায়ীরা

জার্মানি আইটি প্রতিষ্ঠান ফিল্ড বাজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সিস রওলিনসন বলেন, ‘আমি ২০১৩ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসি এবং ২০১৫ সালে এ দেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি জার্মানি-বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠান চালু করি। যেখানে তরুণ ৪০ জন বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রকৌশলরা কাজ করছে। পেশাদারিত্বের জায়গাতে আমি বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতায় মুদ্ধ। আমি দেখেছি যে, বাংলাদেশে প্রচুর তরুণ জনশক্তি আছে যাদের মধ্যে নিজেকে দক্ষ করে তুলবার আগ্রহ রয়েছে। আমি আরও দেখেছি যে, বাংলাদেশে প্রচুর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আছে যারা বিশ্বব্যাপী স্বাধীনরভাবে (ফ্রিল্যান্স) কাজ করছে। আগামী দিনে আইটি খাতে বাংলাদেশের অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে।’

ভূমি এবং ভূগর্ভস্থ পানির (গ্রাউন্ডওয়াটার) উন্নয়ন বিষয়ক জার্মানির প্রতিষ্ঠান বাওয়ার (বিএইউইআর) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেডরিক ডমান্ট বলেন, ‘আমাদের দর্শন হচ্ছে— স্থানীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করা, স্থানীয় জনশক্তিকে দক্ষ বানিয়ে কাজে লাগানো এবং পণ্যের মান ঠিক রেখে দাম কম রাখা। আমাদের এই দর্শন বাংলাদেশে কাজে লাগিয়ে উন্নতি করা সম্ভব। আমরা এখানে প্রযুক্তি আনতে চাই, কারিগরি বিষয়ে এখানকার জনশক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে গড়ে কাজ করতে চাই।’

বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের ইপিজেড (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) পরিদর্শন করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারা আগামী দিনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে রোডম্যাপ করেছে তা আসলেই প্রশংসনীয়। জার্মান ওই রোডম্যাপে অংশ নিতে চায়। এ দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, অবকাঠামো উন্নয়ন, আইটি, কৃষি, আসবাবপত্র, পোশাকখাতসহ একাধিক খাতে জার্মানির ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২২ বছরের ইতিহাসে এবারেই প্রথম জার্মানির উচ্চপর্যায়ের কোনো বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সফর করছেন। জার্মানি বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগানো। আমি প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছি যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য ব্যবসা-বান্ধব সহজ পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে কাজ করছেন।’

সারাবাংলা/জেআইএল/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন