রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

যুব এশিয়া কাপের রানার্সআপ বাংলাদেশ

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

যুব এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ফাইনাল খেললো এই প্রথমবার। টাইগার যুবাদের সামনে ছিল প্রথম শিরোপার হাতছানি। পেসার আর স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে ভারতকে অল্পতে আটকে রাখে বাংলাদেশ। তবে, ব্যাটিংয়ে নেমে তীরে এসে তরী ডুবেছে আকবর আলির দলের। ভারতের কাছে ৫ রানে হেরে শিরোপা জেতা হয়নি টাইগার যুবাদের। শিরোপা ধরে রাখলো ভারত। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করে গাজী টিভি এবং র‌্যাবিটহোলের ইউটিউব চ্যানেল।

বিজ্ঞাপন

ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে রানার্স আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগার যুবাদের। টস জিতে টাইগারদের আগে ফিল্ডিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ভারতীয় অধিনায়ক ধ্রুভ জুরেল। টাইগার যুবাদের দারুণ বোলিংয়ে ১৭ ওভার বাকি থাকতে মাত্র ১০৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় ভারতীয়রা। এশিয়া কাপ জয়ের জন্য টাইগারদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১০৭ রানের। ৩৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তোলে ১০১ রান।

প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের আসর বসে ১৯৮৯ সালে, ঠিক ৩০ বছর আগে। তবে ৩০ বছরের ইতিহাসে টাইগার যুবারা এবারই প্রথম এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল। জাতীয় নারী দল একবার এশিয়া জয়ের মুকুট এনে দিয়েছে টাইগার সমর্থকদের। আর পুরুষ দল খেলেছে ফাইনালে, কিন্তু বিজয়ের মুকুটটা পরা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে ভারতীয় স্কোর বোর্ডে মাত্র ৮ রান যোগ করতেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে দেন টাইগার বোলাররা। ভারতের দলীয় ৩ রানে ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই অর্জুন আজাদকে ড্রেসিং রুমে পাঠিয়ে দেন তানজিম হাসান সাকিব। এরপর স্কোর বোর্ডে ৬ রান হতেই মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ফেরান তিলক ভার্মাকে। ভারতীয় দলীয় রান ৮ হতেই তৃতীয় আঘাত হানে টাইগাররা। এবার রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে যেতে হয় শুভেদ পার্কারকে।

দলপতি জুরেল খেলেন ৩৩ রানের ইনিংস। ১৯ রান করেন রাওয়াত। শেষ দিকে কারান লালের ৩৭ রানে ১৭ ওভার বাকি থাকতে ১০৬ রানে শেষ হয় ভারতীয় ইনিংস। টাইগারদের হয়ে ৬ ওভারে মাত্র ৮ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট তুলে নেন শামিম হোসেন। মৃত্যুঞ্জয় ৭.৪ ওভারে ১৮ রানের বিনিময়ে নেন তিন উইকেট। শাহিন আলম, সাকিব একটি করে উইকেট তুলে নেন।

১০৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ওপেনার তানজিদ হাসান ০, পারভেজ হোসেন ইমন ৫ রানে বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা মাহমুদুল হাসান জয় ১, সহ-অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয় ০, শাহাদাত হোসেন ৩, শামিম হোসেন ৭ রানে বিদায় নেন। দলীয় ৫১ রানেই টাইগার যুবারা টপঅর্ডারের ছয় উইকেট হারায়। এরপর জুটি গড়েন দলপতি আকবর আলি এবং মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। দলীয় ৭৮ রানের মাথায় দুজনই বিদায় নেন। আবারো বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। আকবর আলি ৩৬ বলে ২৩ আর মৃত্যৃঞ্জয় ২৬ বলে করেন ২১ রান।

এরপর জুটি গড়েন তানজিম সাকিব আর রাকিবুল হাসান। ঠান্ডা মাথায় ধীরলয়ে দলকে নিয়ে এগুতে থাকেন তারা। জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে আউট হন সাকিব। ভেঙে যায় ১১.২ ওভারের জুটি। সাকিব আউটের আগে ৩৫ বলে করেন ১২ রান। স্কোরবোর্ডে আর কোনো রান যোগ না হতেই শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন শাহিন আলম। রাকিবুল ৩৪ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ভারতের আকাশ সিং তিনটি, আনকোলেকার পাঁচটি, পাতিল একটি আর মিশ্রা একটি করে উইকেট তুলে নেন।

এর আগে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবক’টিতেই জিতে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল যুবারা। যদিও বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল সেমিফাইনালে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচটি। তবে গ্রুপ পর্বে শীর্ষ স্থানে থাকাটাই সৌভাগ্য বয়ে আনে টাইগারদের জন্য। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমি ফাইনালে নাম লেখায় বাংলাদেশ। আর তখন থেকেই পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ পারফর্ম করা টাইগারদের চোখ ছিল ৩০ বছরের রেকর্ডের পাতায়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে আফগানদের বিপক্ষের ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ফাইনালে উঠে আসে বাংলাদেশ।

টাইগারদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলটিকে পরিচর্যার মধ্যেই রেখেছে বিসিবি। তাদের নিয়ে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে অভিভাবক এই সংস্থাটি। বিসিবির পরিকল্পনার ফলাফলও হাতেনাতে মিলেছে টাইগার যুবাদের কাছ থেকে। ইংল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলা, স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ জয়, ভারতকে হারানো আবার অপরাজিত থেকে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই সফলতার পেছনে বিসিবির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাটাই মূখ্য ভূমিকা রেখেছে।

সারাবাংলা/এসএস/এমআরপি

বিজ্ঞাপন

Tags: , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন