বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

যুবলীগকেও হুঁশিয়ারি: অস্ত্রবাজ-ক্যাডারবাজদের দমন করা হবে

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করেন—তা না হলে কঠোরভাবে এসব অস্ত্রবাজদের দমন করা হবে বলে নিজের দলের নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাশাপাশি দলীয় পদ ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে আসীন আছে তাদেরকে আত্ম অহমিকা ও ক্ষমতার জোরে অর্থ ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৪ সেপ্টম্বর) গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়  কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এই কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একাধিক সূত্র সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শোভন-রাব্বানী পদ পাওয়ার পর ‘মনস্টার’ হয়ে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এখন টানা তিনবার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজী করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গী দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বৈঠকে যুবলীগ প্রসঙ্গে আলোচনার অবতারণা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক। বৈঠকের এজেন্ডায় উল্লেখ থাকা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দল যথাযথ মর্যাদায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করতে চায়। কিন্তু নেত্রী খোদ এটাতে অনীহা প্রকাশ ও অপছন্দ করেন। এক্ষেত্রে নানক যুবলীগের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচীর কথা উল্লেখ করেন।

পরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ কথা উল্লেখ করে বলেন, শনিবার যুবলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা করেছে। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিসের টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। তার জন্য এমন মিলাদ মাহফিল দরকার নেই।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিঁয়ে চলেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এখন টানা তিনবার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজী করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে কঠোরভাবে জঙ্গী দমন করা হয়েছে, একইভাবে এইসব অস্ত্রবাজদেরও দমন করা হবে।’

শোভন-রাব্বানীর পদত্যাগ, ছাত্রলীগের দায়িত্বে নাহিয়ান-লেখক

এছাড়া কয়েকমাস আগে কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্ত্রীর সমালোচনা করে স্টাটাস দেন। এ বিষয়ে দলীয় সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী একজন সদস্য বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটি নিয়ে কথা বলার এখন কিছু নাই। সে  তো দুঃখ প্রকাশ করেছে। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এমন কিছু হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতেই সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি খুব আশাবাদী। আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে- আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। কাজেই আমাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই কথা মাথায় রেখেই সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করে তুলতে হবে। এবং আওয়ামী লীগের সম্মেলনটা যাতে নিয়মিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের যে উপ-কমিটিগুলো আছে তাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে।’ এদিকে জাতীয় সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণায় গণভবনে বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় নেতাদের মাঝেও উৎফুল্লতা ও খোশমেজা দেখা যায়। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়েও উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে কাউন্সিল ঘণ্টায় আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, বৈঠকে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত সাংগঠনিক আলোচনাটাই বেশি হয়েছে। ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর জাতীয় সম্মেলন হয়েছে। এই অক্টোবর মাসে তার তিন বছর হয়ে যাবে। এর মধ্যে কিছু জেলা সম্মেলন, কিছু উপজেলা সম্মেলন অনেকদিন হয়ে গেছে এই সম্মেলনগুলোর কাজ শেষ করা দরকার। সেজন্য জাতীয় সম্মেলনের আগেই বিভিন্ন পর্যায়ের শাখা সম্মেলনগুলো সমাপ্ত করার ব্যাপারে একটা সময়সীমা রেখে জাতীয় সম্মেলনের তারিখ আগামী ডিসেম্বর মাসে, আমাদের বিজয়ের মাসে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। স্থান এখনো ঠিক করিনি। পরে এটা ঠিক করা হবে। তবে আওয়ামী লীগের সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হয়। ধরে নিতে পারেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হবে। ২০ তারিখ শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। আমরা তিনটা থেকে শুরু করবো। পরের দিন সকালে কাউন্সিল অধিবেশন হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৩ অক্টোবর এই কমিটির তিনবছর পূর্ণ হবে। ২০১৬ সালের ওই সম্মেলনে টানা অষ্টমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। সম্মেলনে টানা দুবারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সভাপতিমণ্ডলী স্থান দেওয়া হয়। এছাড়া সম্মেলনে ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মধ্যে ১৪ জন এবং ৪ জন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ২১টি পদে নেতা নির্বাচন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে দলটি।

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন