শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৩ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণায় উদ্দীপনা আওয়ামী লীগে

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | ৭:২১ পূর্বাহ্ণ

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল। ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণায় উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির নেতা-কর্মীদের মাঝে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শোভন-রাব্বানী পদ পাওয়ার পর ‘মনস্টার’ হয়ে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

বৈঠকের শুরুতেই সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি খুব আশাবাদী। আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে—আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। কাজেই আমাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই কথা মাথায় রেখেই সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করে তুলতে হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সম্মেলনটা যাতে নিয়মিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের যে উপকমিটিগুলো আছে তাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৩ অক্টোবর এই কমিটির তিন বছর পূর্ণ হবে। ২০১৬ সালের ওই সম্মেলনে টানা অষ্টমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনে দুবারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সভাপতিমণ্ডলীতে স্থান দেওয়া হয়। এছাড়া সম্মেলনে ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মধ্যে ১৪ জন এবং চার জন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ২১টি পদে নেতা নির্বাচন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে দলটি।

শোভন-রাব্বানীর পদত্যাগ, ছাত্রলীগের দায়িত্বে নাহিয়ান-লেখক

শনিবার বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বৈঠকে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত সাংগঠনিক আলোচনাটাই বেশি হয়েছে। সাংগঠনিক আলোচনার মধ্যে আমাদের ২২ ও ২৩ অক্টোবর (২০১৬) তারিখে জাতীয় সম্মেলন হয়েছে। এই অক্টোবর মাসে তিন বছর হয়ে যাবে। এর মধ্যে কিছু জেলা সম্মেলন, কিছু উপজেলা সম্মেলন অনেকদিন হয়ে গেছে এই সম্মেলনগুলোর কাজ শেষ করা দরকার। সেজন্য জাতীয় সম্মেলনের আগেই বিভিন্ন পর্যায়ের শাখা সম্মেলনগুলো সমাপ্ত করার ব্যাপারে একটা সময়সীমা রেখে জাতীয় সম্মেলনের তারিখ আগামী ডিসেম্বর মাসে, আমাদের বিজয়ের মাসে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

স্থান এখনো ঠিক করিনি। পরে এটা ঠিক করা হবে। তবে আওয়ামী লীগের সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হয়। ধরে নিতে পারেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হবে। ২০ তারিখ শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। আমরা তিনটা থেকে শুরু করবো। পরের দিন সকালে কাউন্সিল অধিবেশন হবে।

১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের জন্য প্রথম সমাবেশ হয় ঢাকার কে এম দাশ লেনের কে এম বশির হুমায়ূনের বাসভবন রোজ গার্ডেনে। আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে সেখানে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। এখানেই মূলত স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে জন্ম নেয় বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তখন অবশ্য এর নাম করণ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’।

দ্বিতীয় কাউন্সিল ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলে গঠিত কমিটিতে সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তৃতীয় কাউন্সিল আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৫৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে হওয়া এই কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের এজেন্ডাগুলো ছিল পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ এবং অবিলম্বে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়ন।

একটি অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে সবার সামনে তুলে ধরতে দলের নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দটা বাদ দিয়ে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ' রাখা হয়। এখানের সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশন (চতুর্থ) ১৯৫৬ সালের ১৯-২০ মে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সাধারণ পরিষদের নির্বাচন দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার উপায় বের করাই ছিল এই কাউন্সিলের লক্ষ্য।

টাঙ্গাইলের কাগমারীতে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের আরেকটি বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ-বপন করা হয়। এখানে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি।

১৯৬৪ সালের ৬ ও ৭ মার্চ ঢাকার হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ সভাপতি ও শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এই কাউন্সিলে মুসলিম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

হোটেল ইডেনে ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিলে ৬ দফা দাবি পুস্তিকাকারে বিতরণ করা হয়। এই কাউন্সিলে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন তাজ উদ্দিন আহমেদ।

হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে ১৯৭০ সালের ৪ জুন ১১৩৮ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ছয় দফার ভিত্তিতে রচিত ১১ দফা এই কাউন্সিলে গুরুত্ব লাভ করে। সেই সঙ্গে আগত ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়েও এই কাউন্সিলে আলোচনা হয়। নির্বাচনকে একটি গণভোট হিসেবে দেখার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান কাউন্সিলের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হিসেবে অর্থাৎ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিল এটি। এই কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পুনরায় অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য এই কাউন্সিলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দশম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাওয়ার আগে এটিই ছিল আওয়ামী লীগের শেষ কাউন্সিল। দলীয় গঠনতন্ত্রে গণতান্ত্রিক ভাবধারা প্রণয়নের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। কারণ নতুন গঠনতন্ত্র অনুসারে সরকারের দায়িত্বে থাকা কেউ দলের দায়িত্বে থাকতে পারবে না। ফলে এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে সভাপতি ও জিল্লুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

ঢাকার হোটেল ইডেনের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কাউন্সিলে আসলে নির্দিষ্ট কোনো কাউন্সিলর ছিল না। তার পরিবর্তে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে আহ্বায়ক করে ৪৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়।

১৯৭৮ সালের ৩, ৪ ও ৫ এপ্রিল দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আবদুল মালেক উকিলকে সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন (ত্রয়োদশ) কাউন্সিল। দলে নেতৃত্ব শূন্যতা ছিল দীর্ঘদিন। তার পূরণ হয় শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। তাই ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এই কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন আবদুর রাজ্জাক। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কাউন্সিলে দলের 'নীতি-নির্ধারণের' দায়িত্ব অর্পিত হয় 'সভাপতিমণ্ডলি'র ওপর।

১৯৮৭ সালের ১ থেকে ৩ জুন পর্যন্ত চলা এই কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। সেই সঙ্গে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯২ সালের ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ তার জাতীয় কাউন্সিল করে। সেখানে ২০ সেপ্টেম্বর নতুন অর্থনৈতিক নীতিমালার আলোকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনা হয়। এখানেও সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন জিল্লুর রহমান।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয় লাভের পর ১৯৯৭ সালের ৬ ও ৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এখানেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।

বিএনপি ও স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি জামায়াত ইসলাম ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর একদিনের জন্য জাতীয় কাউন্সিলে বসে আওয়ামী লীগ। এখানে নতুন প্রাণ পায় দলটি। এ সময় শেখ হাসিনা সভাপতি ও মো. আবদুল জলিল সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরবর্তী আওয়ামী লীগের (অষ্টাদশ) কাউন্সিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরবর্তী ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর ২৪ জুলাই জাতীয় কাউন্সিলের আয়োজন করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু কনভেনশন সেন্টারে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর একদিনের জন্য ১৯তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষণাপত্রের সংশোধনী এখানে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এবারও সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচিত হন।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে, এগিয়ে চলেছি দুর্বার। এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ স্লোগান ধারণ করে ২০১৬ সালের ২২ অক্টোবর দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল। সেই সময়ের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্মেলনের আগে চমকের কথা বলেছিলেন। চমক হিসেবেই সামনে আসে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নানাভাবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে ৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। তিনি আবারও ফিরে এসেছেন সবার মাঝে। চিকিৎসা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে তিনি বলেন, জনগণের ভালবাসায় নতুন জীবন পেয়েছি, নতুন উদ্যমে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করব। তার এই প্রত্যয়ে বেশ স্পষ্ট, তিনি আবারও দলের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

এছাড়া আওয়ামী লীগের কনভেনশন অনুযায়ী পর পর অন্তত দুবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হওয়ার প্রচলন চলছে অনেক দিন ধরে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে কাউন্সিল ও নেতৃত্ব নিয়ে নানামুখী কথা। দলের অন্তত হাফ ডজন নেতা তাদের কর্মকাণ্ডে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা ও সারাদেশের নেতাকর্মীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদেরের অবর্তমানে গঠনতন্ত্র (২৫-এর গ) অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

এছাড়া নানা কারণে সামনে চলে এসেছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের নাম। নেতা-কর্মীদের কাছে সজ্জন হিসেবে পরিচিত ড. রাজ্জাক মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত নির্বাচনে দলের ইশতেহার প্রণয়নেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সম্মেলন সামনে রেখে দলীয় ও সরকারী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ড. রাজ্জাকের তৎপরতা বেড়েছে। মন্ত্রণালয় সামলানোর পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও। দলীয় কার্যালয় ও দলীয় নেতা-কর্মীর বাইরেও রাজ্জাকের নাম আলোচনা হচ্ছে। এছাড়াও দলের অপর দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমানও আগামী জাতীয় সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী হিসাবে দলীয় ঘরানায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বাকি নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

 

আরও পড়ুন:

শোভন-রাব্বানীর পদত্যাগ, ছাত্রলীগের দায়িত্বে নাহিয়ান-লেখক

শোভন-রাব্বানী বানোয়াট গল্প সাজিয়েছে: জাবি উপাচার্য

ছাত্রলীগের দায়িত্বে শোভন-রাব্বানী থাকছেন কিনা সিদ্ধান্ত সন্ধ্যায়

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুপুর পর্যন্ত ঘুমান!

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন

Tags: , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন