বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্কে ১৫ লাখ গাছ লাগাবে বেজা

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্কে আগামী পাঁচবছরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৫ লাখ গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘যেহেতু অবৈধভাবে গাছ কাটার কারণে ওই অঞ্চলে প্রায় ৪,০০০ একর জমির অনেক ম্যানগ্রোভ গাছ এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আমরা সোনাদিয়া দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বীপ ও এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোকে সবুজের সমারোহ সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটন পার্কে পরিণত করব। এবছরের মধ্যে সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্কে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে।’

পবন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বেজা সারাদেশে পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কে বেজা গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়ে ওই এলাকার ৩১৫ পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। অঞ্চলটিতে যারা বনের ওপর নির্ভরশীল তাদের জন্য বিকল্প জীবিকা তৈরি করছে বেজা।’

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বেজা স্থানীয়দের জন্য মসজিদ ও স্কুলসহ সব সুযোগ-সুবিধার সমন্বিত পরিকল্পিত আবাসন তৈরি করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সিটি গ্রুপ ও সিটি ব্যাংক লিমিটেড বেজা’র এ উদ্যোগে পর্যটন পার্কে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার করছে। এতে সিটি গ্রুপ ১ লাখ এবং সিটি ব্যাংক লিমিটেড ৫০ হাজার গাছের চারা রোপণ করছে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, পর্যটন পার্কে নির্মাণ কাজ শুরু করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি বেজা। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করার পরে, বেজা অঞ্চলটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন পার্ক তৈরির কাজ শুরু করবে।

তিনি বলেন, গাছ লাগানোর সময় বেজা অঞ্চলটির মাটি ও পরিবেশের দিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছে। তাই আমরা ওখানে সেইসব প্রজাতির চারা রোপণ করছি যেগুলো উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযোগী।

পবন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সোনাদিয়াকে সত্যিকার অর্থেই সবুজে সবুজ করে সংরক্ষণ করতে চাই। এভাবেই আমরা এলাকায় পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছি। সোনাদিয়া ও সংলগ্ন অন্যান্য দ্বীপ নিয়ে ৯,৪৬৭.৩১ একর জমিতে সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্কটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বেজার। ইতিমধ্যে সোনাদিয়া দ্বীপে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের জন্য পরিবেশবান্ধব মাস্টার প্ল্যান করার উদ্যোগ নিয়েছি।

সোনাদিয়া কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক থেকে ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্র সৈকতে এর দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার। উজ্জ্বল নীলসাগর বেষ্টিত ধূ ধূ বালুচরের দৃষ্টিনন্দন দ্বীপটিই আমাদের সোনাদিয়া। এই দ্বীপটি লাল কাঁকড়ার জন্যেও বিখ্যাত। এই দ্বীপের দীঘল ঝাউ গাছগুলো কক্সবাজার উপকূলের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়েছে।

বেজা আশা করে যে, পার্কটি কক্সবাজারের মতো আরেকটি নতুন পর্যটন শহর হবে। এটি দেশি এবং বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস হয়ে উঠবে। এটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। খবর: বাসস।

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন