বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ইচ্ছার বিরুদ্ধেই আমাকে প্যারিসে রেখেছে: নেইমার

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | ১:৪৯ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

ইউরোপিয়ান দল বদলের মৌসুমের অর্ধেকটা কেটেছে নেইমার, পিএসজি এবং বার্সেলোনার মধ্যকার নাটকীয়তায়। নেইমারের কর্মকান্ডে বেশ ক্ষুদ্ধ হয়েছিল পিএসজির সমর্থকরা। আর তাই তো দলবদলের মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে নানান ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে হাজির হয়েছিল তারা। নেইমারের প্যারিস ছাড়া হয়নি, বনিবনা না হওয়ায় এই মৌসুম পিএসজির জার্সি পরেই খেলতে হচ্ছে নেইমারকে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগেই পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন নেইমার। তবুও পিএসজির লিগ ম্যাচ গুলোতে তাকে দলে রাখেননি কোচ থমাস তুখেল। সে সময় নেইমারকে দলে না ডাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ‘ওর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলের সাথে খেলবে না।’

নেইমারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পিএসজিতেই থেকে গেছে সে। আর পিএসজি বস তুখেলও তাকে দলের সাথে স্টার্সবার্গের বিপক্ষে শুরু একাদশেই নামিয়েছেন মাঠে। কোচ তুখেলের সাথে নেইমারের সম্পর্ক আগের মতোই দেখা গিয়েছে। তবে সমর্থকরা কোনোভাবেই নেইমারকে মেনে নিতে পারছেন না। আর তাই তো ঘরের মাঠই যেন নেইমারের জন্য প্রতিপক্ষের মাঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শুরুতেই দেখা মেলে নেইমারের বিরুদ্ধে নানা রকমের ব্যানার এনেছে পিএসজি উগ্রপন্থী সমর্থক গোষ্ঠী। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘নেইমার সিনিয়র, তোমার ছেলেকে ব্রাজিলের পতিতালয়ে বিক্রি করে দাও।’ পিএসজির সমর্থকরা আরও বলে, ’২০ মিলিয়ন দিয়ে তোমার ছেলেকে মেসির কাছে পাঠাও, প্যারিসে না’

এছাড়াও অনেক উগ্র শব্দও ব্যবহার করতে দেখা যায় পিএসজি সমর্থকদের। তবে এসব কিছুর জবাব নেইমার দিয়েছেন মাঠেই। পুরো ম্যাচ জুড়ে দারুণ খেলেছেন নেইমার। আর ম্যাচ শেষের অন্তিম মুহূর্তে তার গোলেই শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি। ম্যাচের ৯২ মিনিটে অ্যাক্রোব্যাটিক এক গোলে করে পুরো স্টেডিয়ামের সমর্থকদের মুখ বন্ধ করে দেন নেইমার।

ম্যাচ শেষে সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘আমি তো পিএসজি ছাড়তেই চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে জোর করে রেখে দিয়েছে ওরা। তবে এখনে যতদিন আছি ততদিন আমি পিএসজির হয়ে ভাল খেলতে চাই। আমার সব চিন্তা ভাবনায় এখন কেবল পিএসজি।’

নিজের বিরুদ্ধে সমর্থকদের দুয়ো দেওয়া নিয়েও কথা বলেন নেইমার। ‘এটা আসলে অনেক দুঃখজনক যে নিজের ক্লাবের সমর্থকদের কাছ থেকেই দুয়ো শুনতে হচ্ছে। প্রতিটা ম্যাচ আমি এখানে খেললে মনে হবে আমি যেন প্রতিপক্ষের মাটিতে খেলছি।’

এক গোল দিয়ে ম্যাচ জয় করে সমর্থকদের মুখ কিছুটা হলেও বন্ধ করেছেন নেইমার। ‘আসলে কোনো ফুটবলারকেই দুয়ো দেওয়া উচিৎ নয়। যে খেলোয়াড়কে এখন দুয়ো দিচ্ছে সমর্থকরা, সেই খেলোয়াড়ের গোলই সমর্থকরা উদযাপন করবে ম্যাচ জিতলে।’

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন