বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘সরকার বাংলাদেশে নির্বাচনি স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে’

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকার বাংলাদেশে নির্বাচনি স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংস করে ফেলেছে। তারা এটা করেছে স্বৈরতন্ত্র বা অটোক্রেসি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এখন দেশে নির্বাচনি  স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’

রোববার (১৫ সেপ্টম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই দিনে জনগণের কাছে আমরা যে বক্তব্যটি দিতে চাই, তা হচ্ছে— আসুন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা— এককথায় উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে গণতন্ত্রের চেতনার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সেই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।’

বিজ্ঞাপন

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের দলের কমিটমেন্ট শতকরা ১০০ ভাগ। আমাদের দলই সেই দল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন এবং বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে চরম রাজনৈতিক নৈরাজ্য চলছে। বিরোধী দলের ওপর চলছে নিষ্পেষণ, অত্যাচার, গুম, খুন, হামলা। কোনো ব্যক্তি এই সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তার ওপর নেমে এসেছে প্রশাসনের খড়গ। গত ১০ বছরে বিরোধী দলের প্রায় ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখের বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতিসংঘ আজ বাংলাদেশ সরকারকে প্রশ্ন করতে পারে, এই দেশ তাদের সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের সই করেও কীভাবে এবং কী ধরনের একটি সরকার চালু রেখেছে, যেখানে সে সনদের কোনো কিছুই মানা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে মাত্র সাপ্তাহ খানেক আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে বিশ্বের  সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং একইসঙ্গে স্পষ্ট করেছে— গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি বর্তমান সরকারের কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। সম্প্রতি কানাডা সরকারও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনগুলোতে বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়গুলো স্পষ্টভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল বাহন যে নির্বাচন, সেই নির্বাচনের গতি-প্রকৃতি ৩০ ডিসেম্বর-২০১৮-এর আগের রাতে কী ছিল, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। বিশ্বের সব নামি-দামি পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়া সে বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই গণতন্ত্রহীন পরিবেশে সরকার হয়তো এই আত্মতৃপ্তি অনুভব করতে পারে, তারা আজ পুরো বাংলাদেশ দখল করে নিয়েছে, আজকের বাংলাদেশে কোনো বিরোধী দল নেই, তাদের সকল কার্য্ক্রম স্তব্ধ করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মাধ্যমে। সরকারের সর্বশেষ কার্য্ক্রম ছাত্র দলের কাউন্সিল ও নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে  জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।’

ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার অপসারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটাই প্রমাণ করেছে দেশে কী হারে দুর্নীতি চলছে, চাঁদাবাজি চলছে। একটি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দেশের প্রধানমন্ত্রী বহিষ্কার করেছেন। এরকম সারাদেশেই চলছে।’

এই বহিষ্কারকে আপনি কীভাবে দেখছেন— প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা প্রমাণ হয়ে গেছে যে তাদের দল দুর্নীতি করছে এবং সবাই মিলে দুর্নীতি করছে। এটা তো রিকগনেশন অব করাপশন।’

ছাত্রদলের কাউন্সিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইন দিয়ে তো রাজনীতি হয় না। আমি সেদিনও বলেছি, এভাবে রাজনীতিকে আদালত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা— এখানেই আমাদের আপত্তি। এটা নজিরবিহীন ঘটনা। একটা রাজনৈতিক দলের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে আদালত এবং সেটা সরকারের উদ্যোগে, তারাই করাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন