বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘সমন্বিত উদ্যোগেই সম্ভব মানব পাচার রোধ’

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অবৈধভাবে দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের অনেক অভিবাসী মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন। চলাচলে সীমাবদ্ধতা, ঋণের চক্রে পড়া, জোরপূর্বক শ্রম, যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক বিবাহ এবং দাসত্বের মতো শোষণমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন তারা। দরিদ্র ও প্রান্তিক নারী ও পুরুষ এবং শিশুরাই মানব পাচারকারীদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। অভিবাসনের সকল স্তরে সরকার, উন্নয়ন অংশীদার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক অংশিদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানব পাচারের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কম্প্রিহেন্সিভ রেস্পন্সেস টু ট্রাফিকিং ইন পারসন্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তাদের আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।

জাতিসংঘের মাইগ্রেশন নেটওয়ার্ক-এর সমন্বয়ক আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনোমিক কাউন্সিলর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘মানব পাচারকে আমরা মারাত্মক অপরাধ হিসেবে দেখছি। সবশেষ ট্রাফিকিং ইন পার্সন (টিআইপি)-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকায় আছে, যা উদ্বেগের বিষয়। পাচারের শিকার অনেক মানুষ এখন ভুক্তভোগী।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশ হলো, পাচারকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের গঠনমূলক কর্ম-পরিকল্পনা আছে। এখন এর প্রয়োগের ওপর জোর দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘সমাজে যারা প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত এবং ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন তারাই বেশি পাচারের শিকার হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে সমন্বয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদ ও পরিসংখ্যান অনেক জরুরি। তবে এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।’ তিনি বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে সৃজনশীল এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে, এটি একটি উন্নয়নমূলক বিষয়। যারা পাচারের শিকার হচ্ছেন বা বেঁচে আসতে পারছেন তাদেরকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে।’

পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেন, ‘মানব পাচারের ধরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। আপনি যদি পুরোনো কায়দায় মানব পাচার প্রতিরোধ করতে চান তাহলে ব্যর্থ হবেন। বাস্তবতা হলো মানব পাচার প্রতিরোধে উদ্যোগ ও এই ব্যবসার মধ্যে বিস্তর তফাৎ আছে। আপনি যদি মানব পাচার নিয়ে কথা না বলেন তবে অভিবাসন নিয়ে আসলে আপনি কথা বলতে পারবেন না। আমরা মানব পাচার প্রতিরোধে অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার মানব পাচার প্রতিরোধে পালেরমো প্রটোকল রেটিফাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, ‘জাতিসংঘের মাইগ্রেশন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক হিসেবে অভিবাসীরা যে দেশে থাকছেন, যে দেশ থেকে যাচ্ছেন এবং যে দেশগুলোতে যাচ্ছেন সেখানে তাদের অধিকার ও ভালো থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। একই সঙ্গে মানব পাচার রোধে আমরা সব সময় সরকারের পাশে আছি।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মার্কিন বিচার বিভাগের আবাসিক আইনজীবি এরিক ওপেঙ্গা, আইএনসিআইডিআইএন-এর নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী, আইওএম-এর সিনিয়র মাইগ্র্যান্ট প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট জনাথন মার্টেন্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এমআই

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন