রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চর উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ নিয়ে প্রশ্ন খোদ পরিকল্পনা কমিশনেরই!

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চর উন্নয়নের একটি প্রকল্পের খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ‘চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪-অতিরিক্ত অর্থায়ন’ প্রকল্পটি ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্প থেকে ভ্রমণ ভাতা, ওভার টাইম, সম্মানিসহ বেশকিছু খাতের প্রস্তাবিত খরচ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন খরচের যৌক্তিকতার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশন সুত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ভ্রমণ ভাতা ১৫ লাখ, ওভার টাইম ৪০ লাখ, ট্যাক্স ৩ লাখ, পোস্টেজ ১ লাখ, টেলিফোন/টেলিগ্রাম/টেলিপ্রিন্টারের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার, টেলেক্স/ফ্যাক্স/ইন্টারনেটে ১ লাখ, ফুয়েল ও গ্যাসের জন্য ১২ লাখ, পেট্রোল ও লুব্রিকেন্টে ৩৬ লাখ, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে এক লাখ ৫০ হাজার, স্টেশনারী/সীল ও ষ্ট্যাম্প ৯ লাখ, বুকস ও প্রেয়ডিক্যালস ১ লাখ, অডিও-ভিডিও প্রোডাকশন ৪ লাখ, প্রচার ও বিজ্ঞাপন ১ লাখ ৫০ হাজার, সেমিনার ও কনফারেন্স ২০ লাখ, আপ্যায়ন খরচ ৬ লাখ, ক্লিনিং ও ওয়াশিং এক লাখ ৫০ হাজার, সম্মানি/ফি/চাঁদা ৪ লাখ, জরিপে ১১ লাখ ৭১ হাজার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারে ৬ লাখ, অন্যান্য খরচ ৬৩ লাখ, সাব-সয়েল ইনভেস্টিগেশন ৬ লাখ, যানবাহন মেরামত ১৪ লাখ, আসবাবপত্র মেরামত ৩ লাখ, কম্পিউটার ও অফিস যন্ত্রপাতি মেরামত ৭ লাখ ৫০ হাজার এবং পরিবারের ক্ষতিপূরণে ৩০ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্প যাচাইবাছাই করে কিছু কিছু কমানো ও বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, কারিগরি সহায়তা বাবদ প্রকল্পে সাহায্যের জন্য ৪৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এনজিও কার্যক্রমের সহায়তার জন্য ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন সারাবাংলাকে জানান, প্রকল্পে অতিরিক্ত খরচের বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। পরিকল্পনা বিভাগের সভায় সেক্টর প্রধানদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এখন থেকে যদি কোনো প্রকল্পের প্রস্তাব আসে, তাহলে তার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) খুব ভাল করে দেখতে হবে। অতিরিক্ত বা অসামঞ্জস্য কোনো খরচ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে। তারা যদি সংশোধন করে দেয় তাহলে সেই ডিপিপি প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উপকূলীয় চর এলাকায় জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রকল্পটি (সিডিএসপি) ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪টি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পটির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সিডিএসপি-৫ প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের (আইএফডি) ফান্ডিং সাইকেলের কারণে আগামী ২০২১ সালের পরবর্তী সময় সিডিএসপি-৫ প্রকল্পের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই সিডিএসপি-৪ প্রকল্পটি সমাপ্তির পর এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে সিডিএসপি-৪ এবং সিডিএসপি-৫ এর মধ্যবর্তীকালীন সময়ে একটি সিডিএসপি ব্রাইডিং প্রজেক্ট প্রয়ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য আইএফএডি ২০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার এবং নেদারল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে ৫ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়নের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।

নেদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১৯৮০ সাল থেকে ভূমি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্র হতে ভূমি পুনরুদ্ধার ও চর উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চল বিশেষ করে, নোয়াখালী জেলায় চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপনে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যাপক চর উন্নয়ন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভূমি বন্দোবস্তের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। এরমধ্যে এ প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ২৫ বছরে সমুদ্র হতে জেগে উঠা ৪৫ হাজার একর ভূমির সার্বিক উন্নয়ন করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত করে পুসর্বাসন করা হয়েছে। নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের আওতাধীন উড়িরচর ও সুবর্ণচড়ে ১০ হাজার একর খাস ভূমি সহনশীল উন্নয়ন ও ২০২২ সালের মধ্যে ৬ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে খাস জমি বিতরণের জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইফাদ ও নেদারল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়।

প্রকল্পটির যাবতীয় প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।

প্রকল্পটিতে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১০৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

সারাবাংলা/জেজে/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন