বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘পাওনা টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত মালিক অবরুদ্ধ থাকবেন’

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | ১:৫৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামী বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে মালিকপক্ষ আশ্বাস দিলেও তা মানছেন না শ্রমিকরা। তাই পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কারখানার মালিককে অবরুদ্ধ করে রাখবেন বলে জানিয়েছেন মিরপুরের জারা জিন্স এন্ড নীট ওয়্যার কারখানার শ্রমিকরা।

বিজ্ঞাপন

তারা বলছেন, ‘হাতে টাকা পাওয়ার পরই মালিককে কারখানা থেকে বের হতে দেওয়া হবে। আর ততদিন তারাও কারখানায় অবস্থান করবেন।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টা থেকে রাজধানীর মিরপুর-১ এর চিড়িখানা সড়কে অবস্থিত জারা জিন্স এন্ড নীট ওয়্যার নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে পাওনা টাকার দাবিতে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রায় হাজারখানেক শ্রমিকের দাবি, টানা তিনমাস ধরে কারখানায় কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে তালবাহানা করছে মালিক পক্ষ। একাধিকবার প্রতিবাদ আর বিক্ষোভেও কোনো সমাধান পাননি তারা। তাই পাওনা টাকা আদায়ে এদিন শ্রমিকরা মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে যানজট তৈরি হয় গোটা রজধানীতে।।

পরিস্থিতি সামলাতে ওই বিকেলে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিজিএমইএ'র প্রতিনিধিদের নিয়ে মালিকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রায় সাত ঘন্টার টানা আলোচনা শেষে কারখানার মালিক সিদ্ধান্ত নেন আগামী বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন। শ্রমিকরা এ সিদ্ধান্ত মানলেও কারখানা থেকে মালিক রিয়াজুল ইসলাম রাজুকে আর বের হতে দেননি। শ্রমিকরা শর্ত দেন টাকা পাওয়ার পরেই তিনি কারখানা থেকে বের হতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকারী শ্রমিক মেহেদী হাসান সারাবাংলাকে জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে মালিক আমাদেরকে জানিয়েছে আগামী বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গতমাস ও চলতি মাসের ফুল বেতন ও এক মাসের বেসিক বেতন দেবে। তার এ সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমরাও তাকে জানিয়ে দিয়েছি টাকা দেওয়ার পর তিনি কারখানা থেকে বের হবেন।

আরেক শ্রমিক নুপুর আকতার বলেন, ‘আগামী বুধবার পর্যন্ত আমরা শ্রমিকরাও কারখানের ভেতরে অবস্থান করবো। মালিক যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য আমরা যখন খেতে যেতে হয় তখন অর্ধেক লোক কারখানায় থাকি আর অর্ধেক লোক খেয়ে আসি। ঘুমানোর বেলাও এভাবে করতেছি।’

এ বিষয়ে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন মিয়া সারাবাংলাকে বলেন, টানা বৈঠকের পর মালিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী বুধবার শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করবে। ততদিন শ্রমিকরা মালিককে কারখানায় অবস্থান করতে বলেছে। মালিকও বলেছেন টাকা না দেয়া পর্যন্ত তিনি কারখানায় অবস্থান করবেন। কারণ মালিক আগেও বেতন দেওয়ার সময় পালিয়ে থাকতেন। তাই শ্রমিকরা আর বিশ্বাস করতে চাইছে না। তবে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানার সামনে পর্যাপ্ত পুলিশ অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।

সারাবাংলা/এসএইচ/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন