বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ফেরাউন-হিটলার-আইয়ুব পারেনি, আ.লীগও পারবে না: ফখরুল

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | ২:২৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হাজার চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগের দুর্নীতি আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। ‍কালো বিড়ালের মতো থলের বিড়াল একে একে বের হয়ে পড়ছে। এইভাবে নির্যাতন, গুম, খুন, হত্যা ও নিপীড়ন করে কেউ কখনো টিকে থাকতে পারেনি। ফেরাউন, নমরুদ, হিটলার, আইয়ুব খান, এরশাদ পারেনি; আওয়ামী লীগও পারবে না।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রলীগের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘দুর্নীতির নাম এখন হয়েছে ‘ফেয়ার অ্যান্ড শেয়ার’। যেখানে এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের নাম চলে এসেছে। তিনি ইতোমধ্যে ১ কোটি টাকা নাকি দিয়ে দিয়েছেন। তাহলে শুধুমাত্র ছাত্রলীগের কেন শাস্তি হবে তাকেও রিজাইন দিতে হবে। শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এবং ডিন রাতে গোপনে ছাত্র ভর্তি করছে। দুর্নীতি মুক্ত জায়গা কোথায়? প্রতিটি জায়গা, পরীক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ‍সরকার সুপরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে ধ্বংস ও হত্যা করবার জন্য কারাগারে আটকে রেখেছে। যে মামলায় তাকে আটক করে রাখা হয়েছে সাজা দেওয়া হয়েছে এই ধরনের মামলাতে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতারা জামিন নিয়ে বাইরে আছেন। অথচ খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

এই সরকারের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভোটের আগের রাত্রে ভোট ডাকাতি করে, তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়। আর এইভাবে টিকে থাকার জন্যে তারা দমন, পীড়ন ও অত্যাচারের পথ বেছে নেয়। আজ ১ লাখ মামলা দেওয়া হয়েছে, যেখানে আসামির সংখ্যা ২৬ লাখ। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক কোনো দলের ওপর এই ধরনের নির্য্তন হয়েছে আমাদের জানা নেই। সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ভীতটাকেই নষ্ট করছে।’

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। বিচারবিভাগকে দলীয়করণ করছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। গণমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং বহুলাংশে তারা সফল হয়েছে। আজ ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। কথা বললে তুলে নিয়ে যাবে, মামলা হবে। যারা বুদ্ধিজীবী ও অধ্যাপক আছেন তারাও কথা বলার সাহস আনতে পারছেন না। কারণ কখন রাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে সেটা তারা জানেন না। এটা একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র যাকে স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করে চলে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/এসজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন