বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘গত এক দশকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে’

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩:৪০ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে সমস্যা থাকলে তা জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সমস্যা থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি প্রতিবেশির সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে একটি সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকলে পরে তা অনেক কিছু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই সহজ হয়।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক আস্থা, প্রত্যয় ও শুভকামনার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গত এক দশকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রচলিত এবং অপ্রচলিত ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতিও সাধিত হয়েছে। আমি মনে করি বিশ্ববাসীর কাছে এটা আমরা একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি।’

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে ড. কালাম স্মৃতি উৎকর্ষ পুরস্কার-২০১৯ গ্রহণ করার সময় দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। খবর বাসসের।

ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালাম স্মরণে তামিলনাড়ু সরকার ২০১৫ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তন করে। বিকেলে ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত টিপি শ্রীনিবাসন শেখ হাসিনার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অসামান্য অবদান, জনকল্যাণ বিশেষত নারী ও শিশুদের কল্যাণে বিশেষ অবদান রাখা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার জন্য শেখ হাসিনাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হলো।

দেশের জনগণের প্রতি কর্তব্য পালনে তাঁর দায়বদ্ধতার প্রতি প্রশংসার নিদর্শন হিসেবে এই পুরস্কার গ্রহণ করছেন বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি এই কর্তব্য পালনই আমার জীবনের মূলমন্ত্র, যেমনটি ছিল আমার পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। আমি এই পুরস্কার দেশের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

ড. কালাম স্মৃতি পদক গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশবাসীকে টেকসই উন্নয়ন অর্জনে আমি হয়তো সামান্য কিছু অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছি আর সেটা সম্ভব হয়েছে আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দেশের জনগণের জন্য। যারা আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে এবং এদেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাদের উন্নয়নের কাজ করতে সহযোগিতা করেছে। কাজেই সেদিক থেকে আমি মনেকরি এতে বাংলাদেশের জনগণেরই সব থেকে বড় অবদান।’

এই পুরস্কার তাকে ও তার সরকারকে আগামী দিনগুলোতে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সংরক্ষণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে জনগণের বৃহত্তর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অর্জনে কাজ করতে উৎসাহ যোগাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ অর্থাৎ শুধু আমাদের দেশ নয়, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জনগণও এর সুফলটা পেতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবসময় আমরা আমাদের পদক্ষেপ নেই। সেজন্য একটি বন্ধুত্বসুলভ প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর সবসময় আমরা জোর দিয়েছি এবং আমরা তা করতে সক্ষম হয়েছি।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীসহ ভারত ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত বিদেশি কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. কালাম স্মৃতি আন্তর্জাতিক অ্যাডভাইসোরি কমিটির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে কেরালার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, পুন্নাডা (এক ধরনের কাপড়) এবং সংস্থার লোগো উপহার দেওয়া হয়।

এর আগে মালদ্বীপ, ঘানা এবং মরিশাসের রাষ্ট্রপতিরা এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

সারাবাংলা/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন