বিজ্ঞাপন

এত খানাখন্দ আগে কখনো ছিল না কক্সবাজারে!

September 19, 2019 | 8:00 am

ওমর ফারুক হিরু, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

কক্সবাজার: পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রধান সড়কসহ প্রায় সবক’টি উপসড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দক আর বড় বড় গর্ত। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় জনগণসহ পর্যটকরা। ভুক্তভোগীরা এই পরিস্থিতিকে দেখছেন পর্যটনগরীর স্মরণকালের দুর্ভোগ হিসেবে। সড়কের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, কক্সবাজারের সড়ক উন্নয়নে ৮৭কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। তা বাস্তবায়ন হলে উন্নতমানের সড়ক হবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।এত খানাখন্দ আগে কখনো ছিল না কক্সবাজারে!

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের পর্যটন জোন কলাতলী থেকে বাজারঘাটা হয়ে লিংকরোড পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের কোথাও স্বাভাবিক অবস্থা নেই। পুরো সড়কজুড়েই সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দক আর বড় বড় গর্ত। প্রধান সড়কের সার্কিট হাউস, লালদীঘির পাড়া, বাজারঘাটা, বার্মিজ মার্কেট, খুরুশকুল রাস্তারমাথা, তারাবনিয়ার ছড়া, হাসেমিয়া মাদ্রাসা, আলির জাহাল, বাসটার্মিনাল ও লিংক রোডের অবস্থা শোচনীয়। এছাড়া প্রায় ৩০টি উপসড়কের অবস্থাও বেহাল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এর আগে এই চিত্র দেখেননি তারা। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন তারা।

শহরের স্থানীয় বাসিন্দা এইচএম নজরুল জানান, ‘কক্সবাজার এখন দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পর্যটকদের কাছে আমরা লজ্জিত। সড়কের এমন বেহাল দশা আগে কখনও দেখিনি। এরজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সকলেই দায়ী। তাদের অবহেলার কারণে যেন পাপের বোঝা বহন করেছে জেলাবাসী।’

বিজ্ঞাপন

এত খানাখন্দ আগে কখনো ছিল না কক্সবাজারে!

বাহারছড়ার মফিজুর রহমান নামে আরেক বাসিন্দা জানান, পৌরসভার সড়কের এমন দৃশ্য আমরা কখনও প্রত্যাশা করিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা দায়িত্বশীলদের অবহেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সড়কগুলো ঠিক করে দেওয়া হোক।

রুহুল আমিন সিকদার নামে এক ব্যক্তি জানান, পৌরসভার সড়কের এই দুরবস্থার জন্য পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী। তাদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই তাদেরকেই পর্যটন নগরীর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় দায় নিতে হবে। অন্যথায় জেলাবাসী তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি জানান, বড় আশা করেই জনপ্রতিনিধিদের ভোট দিয়েছি সড়কসহ এলাকার শান্তি রক্ষার্থে। কিন্তু উপহার হিসেবে পেলাম দুর্ভোগ। এমনটা প্রত্যাশা করিনি।

সড়কের বেহাল দশা‘র কথা স্বীকার করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে শহরের সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। তবে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে কিছু কিছু জায়গায় ঠিক করছি। দুই-এক দিনের মধ্যে ঢাকা গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে সড়ক সংস্কারের মাধ্যমে এই দুর্ভোগ লাঘবের ব্যবস্থা করব।’

এত খানাখন্দ আগে কখনো ছিল না কক্সবাজারে!

কক্সবাজারের এই সড়কগুলোর দুর্ভোগের ব্যাপারে জানতে পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানান, কক্সবাজার পৌরসভার সড়কগুলোর দায়িত্বে রয়েছে পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই ৩ সংস্থার সাথে মিটিং হয়েছে। পর্যটন নগরীর উপযোগী রাস্তার জন্য এরইমধ্যে ৮৭ কোটি টাকার টেন্ডার হয়ে গেছে। আর দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হবে।

সারাবাংলা/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন