বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘অবৈধ’ কাজের সঙ্গী না হলেই হতো বদলি বা চাকরিচ্যুতি!

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: বিআরটিসির যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারী সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়ার কথামতো কাজ করতেন না তাদের বদলি করা হতো। গাজীপুর ডিপো ম্যানেজার দায়িত্বে অবহেলা ও দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেও তাকে কোনো তিরষ্কার না করে উল্টো নতুন ট্রাক ডিপোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বেতনের দাবিতে আন্দোলন করায় এক বাস চালককে চাকরিচ্যুত ও ৪৬ জনকে বদলি করা হয়। ‘অবৈধ’ কাজের সঙ্গী না হওয়ায় খোদ করপোরেশন সচিবের কক্ষ বদল করে অন্য একটি কক্ষে পাঠিয়ে দেন সাবেক চেয়ারম্যান।

দুই বছর আগে মতিঝিল ডিপো ম্যানেজার নায়েব আলীকে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি দোষী সাব্যস্ত করে তিনটি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করে শাস্তি দিয়েছিল। বদলি করা হয়েছিল ঢাকার বাইরে। সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ তাকে আবার ঢাকায় এনে সেই মতিঝিল ডিপোতেই ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন। বর্তমানে এই ডিপো ম্যানেজার আগের মত বাস ইজারাদারদের হাতে ছেড়ে ‘উপরি ইনকামে’ ব্যস্ত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

ভারত থেকে আনা বিআরটিসি বাসে হাত দিলেই বডি বেঁকে যায়!

বিজ্ঞাপন

এভাবে বিআরটিসিতে নিজের সুবিধামত একের পর এক বদলি বাণিজ্য করে গেছেন সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যেসব ডিপো ম্যানেজার তাকে যত বেশি টাকার অংক বুঝিয়ে দিয়েছেন তাকে তত ভালো জায়গায় পদায়ন করেছেন- এমন অভিযোগ এখন প্রকাশ্য। সবশেষ তার রেখে যাওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করপোরেশন সচিব নূরে আলমকে ডেপুটি ম্যানেজার পদবি দিয়ে একটি ডিপোতে বদলি করা হয়েছে। এতে সচিব নূরে আলম ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাকে বদলি করা হয়েছে নতুন চেয়ারম্যানের যোগ দেওয়ার তৃতীয় কার্যদিবসে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিআরটিসি সচিব নূরে আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সাবেক চেয়ারম্যানের অনেক অবৈধ কাজে সহযোগিতা না করায় তাকে তার কক্ষ বদলি করার ঘটনা স্বীকার করেন।

বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিল ডিজিএম অপারেশন মনিরুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধে। তাকেও বদলি করা হয়েছে তবে তাকে প্রধান কার্যালয়ের ভেতরেই একই পদে দেওয়া হয়েছে। বিআরটিসির বাস বহিরাগতদের হাতে দিতে সিন্ডিকেট গড়ার অভিযোগ এই মনিরুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধেও ছিল।

সিন্ডিকেট চালাচ্ছে বিআরটিসি বাস, লাভের ভাগ কর্মকর্তাদের পকেটে

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে সেখানে সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া ও মনিরুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধে বিআরটিসিতে নিয়োগ বাণিজ্য আর বহিরাগতদের বাস দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে মাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

সাবেক চেয়ারম্যানের পাশের একটি কক্ষে বসতেন করপোরেশন সচিব নূরে আলম। সচিব সাবেক চেয়ারম্যানের বিভিন্ন কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান- এমন কারণেই তাকে সাত মাস প্রধান কার্যালয়ের বাইরে জোয়ারসাহারা ডিপোতে বদলি করে দেওয়া হয়। আবার ৭ মাস পরে তাকে প্রধান কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনলেও চেয়ারম্যানের সামনে সচিবের যে কক্ষ সেখানে বসতে দেননি। তাকে তৃতীয় তলার কোণে একটি পার্টিশন কক্ষে পাঠিয়ে দেন ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া।

বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান ভবনের যে কক্ষে অফিস করেন সেখানে আর কোনো কর্মকর্তা বসেন না। তার পাশের কক্ষটি খালি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

যাত্রী ঝোলে বিআরটিসি বাসে, শ্রমিকের বেতন বকেয়া মাসের পর মাস

এদিকে, আন্দোলনের কারণে অর্ধশত চালককে বদলি করায় তারা আবার আন্দোলনে নেমেছিলেন। এমনকি বদলি আদেশ না ‍তুললে সাবেক চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা দেওয়ার আয়োজনও করেছিলেন তারা। চলমান ওই আন্দোলনেই বিদায় নিতে হয়েছে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া। তবে যাওয়ার আগে সব বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে যান সাবেক চেয়ারম্যান।

নতুন চেয়ারম্যান যোগ দেওয়ার পর আন্দোলনকারী চালকরা সাবেক চেয়ারম্যানের যাবতীয় বিষয়ে নালিশ করেন। অবৈধভাবে সাবেক চেয়ারম্যানকে টাকা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অনেকে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন চেয়ারম্যান এহছানে এলাহী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এখন থেকে এসব পুরোপুরি বন্ধ। প্রথম কাজই হবে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া। ডিপোতে কেউ অনিয়ম করলে তার শাস্তি হবে চূড়ান্ত। কোনো টাকা এদিকে আসবে না, ওদিকেও কাউকে দেওয়া যাবে না।’

এই আশ্বাসের পরেই শ্রমিকরা ডিপোতে ফিরে যান।

আর কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে এহছানে এলাহী বলেন, ‘এক মাসের কাজের মূল্যায়ন করে তিনি বদলি বা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেবেন। যে কর্মকর্তা ডিপোতে অনিয়ম করবেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে নিচের পদের কাউকে দিয়ে ডিপো চালানো হবে।’

সারাবাংলা/এসএ/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন