রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বেতন পেলেন শ্রমিকরা, বন্ধ হয়ে গেল ‘জারা জিন্স’

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | ৭:৪৩ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অবশেষে বকেয়ো বেতন ভাতা পেলেন মিরপুরের ‘জারা জিন্সের’ শ্রমিকরা। পাওনা পরিশোধ করতে গিয়ে গার্মেন্টটির মেশিনারিজ ১ কোটি ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আর সেই পুরো টাকা দিয়েই শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থসংকটে প্রতিশ্রতি পূরণ করতে না পারায় শ্রমিকদের মাত্র দেড় মাসের বেতন দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে গার্মেন্টটিও।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শ্রমিক ও বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে সারাবাংলাকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিএমইএ’র পরিচালক (শ্রম) রেজওয়ান সেলিম বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সারাবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা শেষ হয়েছে। ১ কোটি ৭ লাখ টাকায় মেশিনারিজ বিক্রি করা হয়েছে। সেই টাকায় দিয়েই শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। আর মেশিনপত্র বিক্রির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্মেন্টটি বন্ধ হয়ে গেল।’

এর আগে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত মালিকপক্ষের অর্থের যোগান হয়নি। ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মেশিনত্রের দাম উঠেছিল বলে জানিয়েছিলেন বিজিএমইএ’র নেতারা। তবে শেষ পর্যন্ত তা ১ কোটি ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জারা জিন্সের অপারেটর নুপুর আক্তার মমতাজ সারাবাংলাকে বলেন, ‘১ মাস ১৫ দিনের বেতন দিয়েছে। মালিক আগের বকেয়া পরিশোধ করেনি।’

আরেক শ্রমিক মেহেদি হাসান (প্যাকিং ম্যান) রাতে সারাবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার রাতে বেতন দিয়েছে। তবে যতটুকু দেওয়ার কথা ছিল তা দেয়নি। মাত্র দেড় মাসের বেতন দিয়েছে।’

চিড়িয়াখানা রোডের জারা জিন্স নামের ওই কারখানাটির মালিক ৫ জন। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে মালিকদের মধ্যে রয়েছে গোলাম মোস্তাফা, রেজা ও রিয়াজুল ইসলাম রাজু। বাকি দুজনের নাম জানা যায়নি। তবে শ্রমিক পক্ষ রিয়াজুল ইসলাম রাজুকেই মালিক হিসেবে জানতেন। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।

জানা গেছে, ক্রয় আদেশ না পাওয়া ও গার্মেন্ট পরিচালনায় মালিকপক্ষের ব্যর্থতার কারণেই গার্মেন্টটি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বেকার হয়েছে অন্তত ৮০০ শ্রমিক।

এদিকে, গত চার মাসে দেশের ৩৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবেশী প্রতিযোগী দেশের সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় দেশের কারখানাগুলোর ক্রয় আদেশ কমে যাওয়াই এসব পোশাক কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১৭ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন। জারা জিন্স নামের কারখানাটি বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি নাম।

আরও পড়ুন

তৃতীয় দিনেও অবরুদ্ধ জারা জিন্সের মালিক
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মিরপুরের ‘জারা জিন্স’, বেকার হবেন ৮শ শ্রমিক
চতুর্থদিনেও বেতন পাননি জারার শ্রমিকরা
‘পাওনা টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত মালিক অবরুদ্ধ থাকবেন’
বিজিএমইএ’র উপর ভরসা নেই, পাওনা টাকা নিয়েই ফিরতে চান শ্রমিকরা
৩ মাস ধরে বেতন-ভাতা নেই, মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ

 

সারাবাংলা/ইএইচটি/একে

বিজ্ঞাপন

Tags: , , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন