রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ছাত্রদলের মতো আচরণ নয়, ছাত্রলীগকে সতর্ক করলেন শেখ হাসিনা

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মতো আচরণ যেন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা না করেন, সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন ছাত্রলীগের অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিএনপির ছাত্র সংগঠন ২০০১-এর পর ক্ষমতায় এসে যা করেছে, বা এরও আগে যা করেছে, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সেই রকম আচারণ করা যাবে না। ছাত্রদলের মতো আচরণ করলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ নেতারা তাদের সাংগঠনিক অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

আরও পড়ুন- ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি, একে একে সব ধরব: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগ নেতাদের সর্তক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তোমাদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছি। সেই বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে। ক্ষমতা দেখানোর রাজনীতি নয়, বিনয়ের রাজনীতি করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে চলতে হবে, প্রোটোকল নিয়ে চলতে হবে, ক্ষমতার সঙ্গে চলতে হবে— এগুলো করা যাবে না। এগুলো করলে সাময়িকভাবে কিছু টাকা পয়সা হবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে। সেটা হবে দুঃখজনক। এটা আমি তোমাদের কাছে আশা করি না।

শেখ হাসিনা বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পেলেই নিয়ে নিতে হবে— এই ধারণা নিয়ে রাজনীতি করলে কিছু পাওয়া যায় না। যখন যেভাবে চলার, সেই শিক্ষা নিয়ে চলতে হবে। সেই শিক্ষা বাবা-মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলাম।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজের জীবনে ত্যাগ স্বীকার করার কথা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য কমপ্রোমাইজ করতে বলেছিল, তখন বলেছিলাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা নেই। নিজের জীবনে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যত প্রতিকূল অবস্থা আমার জীবনে মোকাবিলা করতে হয়েছে, বাংলাদেশের আর কারও তেমনটা করতে হয়নি। আমাকে অনেক অফার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু জীবনে কখনো কমপ্রোমাইজ করিনি।

ছাত্রলীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে নিতে হবে, যেন সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়।

তিনি বলেন, নীতি-আদর্শ, সততা-সংযম নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। যদি সেটা না করো, একটা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি না করো, তাহলে ভবিষ্যতে কার কাছে দেশ রেখে যাব? তোমাদের কাজের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্বে আসতে হবে। মানুষ তাহলেই সাদরে গ্রহণ করবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি চাই— তোমরা একটা আদর্শ নিয়ে চলো, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাও। ২০৪১ পর্যন্ত তোমরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্ররা লেখাপড়া করতে এখানে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) আসে। তাদের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

ছাত্রনেতাদের বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘বঙ্গবন্ধুর সিক্রেট ডক্যুমেন্ট’ পড়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এসব বই থেকে ভালো রাজনৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায়।

ছাত্রলীগের ইমেজ বাড়াতে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের ভাবমূর্তি বাড়াতে হবে, দেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে হবে। মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়— এ রকম কোনো কাজে যুক্ত থাকা যাবে না। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দিতে হবে।

তিনি বলেন, সত্যিকারের নীতি আদর্শ রাজনীতি করলে সংগঠন একটা ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। তাহলে মানুষের আস্থা বিশ্বাস ছাত্রলীগের ওপর অনেক বাড়বে। এটা না করে যদি ওদের (বিএনপি) মতো আচারণ করা হয়, তাহলে আমাদের অবস্থাও তাদের মতো হবে।

কোনো কাজই যেন সরকারের সুনাম নষ্ট না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্তক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষ বিরক্ত হলে কষ্টার্জিত সফলতা, সরকার পরিচালনার সুনাম নষ্ট হবে। সাধারণ মানুষ বিরক্ত হয়— এমন কোনো কাজও করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে গোলাম রাব্বানীর পদত্যাগের পর আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। এরপর এই প্রথম তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।

সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আল-নাহিয়ান খান জয়; সহ-সভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, রেজাউল করিম সুমন, সোহান খান, আরিফিন সিদ্দিক সুজন, আতিকুর রহমান খান ও কাসফিয়া ইরা; সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত ) লেখক ভট্টাচার্য; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী, আরিফুজ্জামান আল ইমরান, শামস-ই- নোমান, মো. শাকিল ভূইয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও বেনজীর হোসেন নিশি; সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরিনা ইতি, মামুন বিন সাত্তার ও সাজ্জাদ হোসেন।

এছাড়া ছাত্রলীগ ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন; ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন ও মো. সাইদুর রহমান হৃদয় এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন