বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

৫০ বছরে উত্তর আমেরিকা থেকে বিলুপ্ত হয়েছে ৩০০ কোটি পাখি

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক

লোকচক্ষুর আড়ালে উত্তর আমেরিকা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে পাখিদের দল। এ ব্যাপারে কারোরই যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। সায়েন্স জার্নালে বৃহস্পতিবার ( ১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে দাবি করা হয়েছে, ৫০ বছরে উত্তর আমেরিকা থেকে ২৯ শতাংশ পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সংখ্যায় এর পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি।

বিজ্ঞাপন

ওই গবেষণা পত্রের প্রধান লেখক কেন রোজেনবার্গ বলেছেন, কেউ টেরই পাচ্ছে না এটা কত বড় দুর্যোগ। সবার দৃষ্টি এই দুর্যোগের দিকে ফেরাতে এখনই আমাদের কিছু না কিছু করতে হবে।

বিজ্ঞানীরা কয়েক বছর ধরেই শঙ্কটাপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির পাখিদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তারা দেখেছেন দিনকে দিন এদের সংখ্যা কিভাবে কমে যাচ্ছে। কিন্তু তারা ভেবেছিলেন বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির পাখিদের জায়গায় সাধারণ অতি অভিযোজন ক্ষমতা সম্পন্ন পাখিরা হয়তো পরিবেশের মানবসৃষ্ট পরিবর্তন  মেনে নিয়ে টিকে যাবে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখেনি। উত্তর আমেরিকার বিলুপ্ত পাখিদের উপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে কোনো ধরনের শ্রেণিবিভেদ না মেনেই নির্বিচারে পাখিদের দল বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

রোজেনবার্গ তার গবেষণায় দাবি করেছেন, একই প্রজাতির পাখি সকল ধরনের বাসভূমি থেকেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গ্রাসল্যান্ড প্রজাতির পাখি। তারা মোট সংখ্যার প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ১৯৭০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তাদের ৩১ প্রজাতির ভেতরে ৭০ লাখ সদস্য চিহ্নিত করা গেছে। বনে বসবাস করা পাখিদের বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। এ কারনেই কয়েক কোটি পাখি বিলুপ্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাখিদের বিলুপ্তির জন্য প্রধান দায় মানুষের। তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী কাজকর্মের প্রভাব পড়ছে পাখিদের উপর। তাই মানুষদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তবে এছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে পাখিদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে। তার মধ্যে প্রধান একটি হলো বাসভূমি নষ্ট হয়ে যাওয়া। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ এবং সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান নষ্ট করার কারণে পাখিরা তাদের বাসভূমি হারিয়েছে। বিশেষত গবেষকরা যে গ্রাসল্যান্ড পাখির কথা বলেছেন গবেষণায় তাদের বিলুপ্তির প্রধান কারণ কৃষিজমিতে ফলন বাড়াতে ব্যবহৃত কীটনাশক।

সব প্রজাতির পাখিই যে কমে যাচ্ছে তেমনটা নয়। এক দশকে অনেক প্রজাতির পাখির সংখ্যা বৃদ্ধিও পেয়েছে। কিন্তু পাখিদের মোট সংখ্যা কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। সেই হার হয়তো পাখি বিশারদদের চোখে একবারে ওই ভাবে ধরা পড়ছে না। কিন্তু এক দশকের তথ্যানুসন্ধান করলে বিলুপ্তির হার স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। বাস্তুসংস্থানের জন্য এই বিলুপ্তি যে কি ধরণের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, তা বিবেচনায় রেখে মানুষের উচিত হবে তাদের আশেপাশের পাখিদের উপর নজর রাখা। যেন তারা বুঝতে পারে আর সমস্যাটা অনুধাবন করতে পারে।

গবেষকেরা উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন ৫২৯ প্রজাতির পাখি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং এই সংলগ্ন এলাকা থেকে চলে গিয়ে অন্যত্র বাসা বেঁধেছে। উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে জন্মানো পাখিদের নিয়ে গবেষণায় এ প্রমাণ পাওয়া গেছে। রাডার থেকে পাওয়া তথ্য অনুসন্ধান করেও একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে।

ওই গবেষণা পত্রের এতো এতো দুঃসংবাদের মধ্যেও সুখের কথা এই যে, ওয়েটল্যান্ডে পাখিদের সংখ্যা বাড়ছে। ওয়েটল্যান্ডের রক্ষণাবেক্ষণে লাখ লাখ ডলার খরচ করার কারণে সম্ভবত এই অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। অবশ্য আরও গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সরকার ও নাগরিকদের। তাদের সচেতনতার ফলাফল এই সংখ্যাবৃদ্ধি।

গবেষক রোসেনবার্গ তার গবেষণার শেষ দিকে বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই এই সংখ্যা কমে যাওয়ার হারকে আমরা ঘুরিয়ে দিতে পারবো। কিন্তু তার জন্য ব্যক্তিপর্যায় থেকে এখনই আমাদের সচেতন হতে হবে। পাখিদের উপযোগি গাছের সংখ্যা বাড়ানো, পোষা বিড়ালকে বাড়ির ভেতরে রাখা ইত্যাদি উদ্যোগের মাধ্যমেও পাখির সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখা যেতে পারে। এছাড়াও আকাংক্ষিত মাত্রায় পাখির সংখ্যা না বাড়া পর্যন্ত কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। তাহলে হয়তো উত্তর আমেরিকার পাখির সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।

পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের কিন্তু সুযোগ পেলে পাখিরা তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করলেও করতে পারে। সে সুযোগ মানুষেরই সৃষ্টি করতে হবে।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন