রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিটারারি সোসাইটির কবিতা সংকলন প্রকাশ

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা

ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিটারেরি সোসাইটি সাময়িকী-১ এর 'কবিতা সংখ্যা ২০১৯' এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় গুলশানের ক্যাডেট কলেজ ক্লাবে এই প্রকাশনা  অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

দেশের ১২টি ক্যাডেট কলেজের সাবেক ক্যাডেট ও তাদের পরিবারের সদস্যদের লেখা কবিতা নিয়ে সংকলন গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়। বইটি সম্পাদনা করেছেন কবি লুতফুল হোসেন।

কবিতা সংকলনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দিনব্যাপী সাহিত্য কর্মশালার আয়োজন করা হয়। 'কথাসাহিত্যের কত কথা' স্লোগানে কর্মশালাটি পরিচালনা করেন কথাসাহিত্যিক ও অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। কর্মশালার বিষয় ছিল বৈশ্বিক পরিমণ্ডল থেকে শুরু করে বাংলা ভাষার সূচনা পর্ব, আধুনিক ও উত্তর আধুনিক কালের কথাসাহিত্যক রূপরেখা ইত্যাদি।

ক্যাডেট কলেজ ক্লাব

বিজ্ঞাপন

শুরুতেই ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জসিম আল আমিন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এরপর লিটারারি সোসাইটির সভাপতি শাকুর মজিদ স্বাগতিক বক্তব্যের পর সকাল ১০টায় শুরু হয় কর্মশালা পর্ব। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর দীর্ঘ তিন ঘণ্টার আলোচনায় গ্রিক পুরান থেকে শুরু করে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, রবীন্দ্রসাহিত্য, উপনিবেশিক আমলে এ অঞ্চলের কথাসাহিত্যের উদ্ভব এবং বিকাশের পাশাপাশি সাহিত্যে জাদুবাস্তবতার বিশ্বময় প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে সাহিত্যের ইতিহাসক্রম ও বিকাশের পাশাপাশি প্রাচ্যের সঙ্গে পশ্চিমের কথা সাহিত্যের তুলনামূলক আলোচনাও উঠে আসে। এরপর কথাসাহিত্যিক ও মনোবিজ্ঞানী ডা. মোহিত কামাল সাহিত্যে মন কিভাবে কাজ করে তা  নিয়ে বক্তব্য দেন।

দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই ছিল অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রশ্নোত্তর পর্ব। একইসঙ্গে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লেখক ইকরাম কবীর, জ্যাকি কবীর, মাসরুর আরেফিন, মাশুদুল হক, অভিক রহমান, ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষক জায়েদুল আলম, আবু রইস, হাসনাত হারুনসহ অনেকে। জ্যাকি কবীর তার প্রবন্ধে বাংলা সাহিত্যে দশক অনুযায়ী নারী লেখকদের অবস্থান ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। লেখক মাসরুর আরেফিন বিশ্ব সাহিত্যের প্রভাব এবং নিজের লেখক হয়ে ওঠার প্রসঙ্গে বলেন। মাশুদুল হক তুলে ধরেন সাহিত্যে নতুন প্রজন্মের চাহিদা ও তার প্রতিফলন প্রসঙ্গে।

ড. ফাতেমা দোজার উপস্থাপনায় মনোরম এই সাহিত্য আড্ডায় লিট সোসাইটির সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, নজরুল কবীর, কামরুল হাসান শায়ক, মাজহারুল ইসলাম, মাহবুব আজিজ, তানভীর তারেক, শিমুল সালাহ উদ্দিনসহ অনেক লেখক, সাংবাদিক ও প্রকাশক।

ক্যাডেট কলেজ ক্লাব

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিটারেরি সোসাইটি সাময়িকী-১ এর 'কবিতা সংখ্যা ২০১৯' এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় । অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম উপস্থিত কবিদের নিয়ে লুতফুল হোসেন সম্পাদিত লিট সোসাইটির প্রথম প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

ক্যাডেট কলেজ লিটারারি সোসাইটির প্রথম প্রকাশনা নিয়ে সভাপতি স্থপতি, নাট্যকার, তথ্যচিত্র নির্মাতা ও চিত্রগ্রাহক শাকুর মজিদ সারাবাংলাকে বলেন, ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় অনেকগুলো সহশিক্ষা কার্যক্রমের একটি ছিল দেয়াল পত্রিকা, সাময়িকী ইত্যাদিতে লেখালিখি করা। ছাত্রজীবনে অনেকেই ভালো লেখালিখি করলেও পরে আর সেটা ধরে রাখতে পারেননি। ক্যাডেট কলেজের বর্তমান ও হারিয়ে যাওয়া লেখকদের লেখালেখিকে উৎসাহ দিতেই ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের মাধ্যেম একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই উদ্দেশ্যেই লিটারারি ক্লাবের আত্মপ্রকাশ।

এই সংগঠনের সদস্যরা মাসে একবার সাহিত্য আড্ডায় মিলিত হন। নিজেদের লেখালিখি নিয়ে কথা বলেন। আবার অনেক সময় দেশের খ্যাতনামা কোনো সাহিত্যিককে এনে দিনব্যাপী কর্মশালা করেন। প্রথম কর্মশালাটি ছিল কবিতার। সেটি পরিচালনা করেছিলেন কবি ও অধ্যাপক ড. আজফার হোসেন। পরবর্তী কর্মশালাটি চলচ্চিত্র বিষয়ে করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ক্যাডেট কলেজের ছাত্র এবং তাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের লেখা নিয়ে কবিতা সংকলন প্রকাশের মাধ্যেম শুরু হলো সাহিত্যিক এই গোষ্ঠির প্রথম প্রকাশনা। বছরে মোট চারটি সাময়িকী প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানালেন শাকুর মজিদ। তিনি বলেন, কবিতা, গদ্য, ইংরেজি এবং বিবিধ- এমন বিষয়ে প্রতি বছর চারটি সাময়িকী প্রকাশের ইচ্ছা রয়েছে ক্যাডেট কলেজ লিটারারি ক্লাবের। চারটি সাময়িকীর জন্য চারজন সম্পাদক রয়েছেন। কবিতা সাময়িকীটি সম্পাদনা করেন লুতফুল হোসেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী বইমেলায় সংগঠনের একটি স্টল দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন শাকুর মজিদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এভাবেই সাবেক ক্যাডেটদের মধ্যে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে যোগাযোগের একটি সুন্দর সেতুবন্ধন স্থাপন করা সম্ভব হবে।

সবশেষে উপস্থিত কবিরা কবিতা পড়ে শোনান। সন্ধ্যা ছয়টায় ক্লাবের সহ-সভাপতি এম মোসলেহ-উজ-জামানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

সারাবাংলা/আরএফ/এটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন