রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শের জন্য মিন্নি ঢাকায়

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শের জন্য বাবার সঙ্গে ঢাকায় এসেছেন বরগুনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকায় আসার পর তারা হাইকোর্টে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে দেখা করতে গিয়েছেন।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর সারাবাংলাকে বলেন, ‘আইনজীবী জেড আই পান্নার প্রচেষ্টায় মিন্নির জামিন হয়েছিল। আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে তাকে কৃতজ্ঞতা জানাব। পাশাপাশি মামলার বিষয়েও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব।’

বিজ্ঞাপন

শনিবার বিকেলে বরগুনা থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে আসেন মিন্নির নানা জাকির শিকদার, বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর ও মিন্নি।

মিন্নির বাবা আরও বলেন, ‘রিমান্ডে নিয়ে আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার শারীরিক নানা অসুবিধা দেখা দিয়েছে। তাই তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য এনেছি।’

মিন্নির বাবা বলেন, ‘রিমান্ডে নিয়ে আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথা দেখা দিয়েছে। তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। এ সব কারণে আমার মেয়ে বিষণ্নতায় ভুগছে। তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছি। এ জন্য ঢাকায় চিকিৎসার জন্য এসেছি। চিকিৎসার জন্য যতদিন লাগবে, ততদিন মিন্নিকে ঢাকায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।’

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় মিন্নি তার স্বামী বাঁচাতে চেষ্টা করছেন— এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে প্রকাশ পাওয়া অন্য ভিডিওতে মিন্নির আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয় বলে দাবি করেন রিফাতের পরিবার সদস্যরা। মিন্নিও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত— এমন অভিযোগ এনে তারা রিফাতকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

পরে পুলিশ প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তাকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনেই মিন্নিকে আদালতে নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিকে, রিফাত হত্যার পরদিন তার বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচ জনকে আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এখন পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামিসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে মিন্নিসহ মোট ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রিফাত হত্যা মামলায় গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। ওই অভিযোগপত্রে মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে বর্তমানে জামিনে আছেন মিন্নি।

সারাবাংলা/এজেডকে/একে

বিজ্ঞাপন

Tags: , , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন