রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

মিন্নির বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিট মনগড়া উপন্যাস: আইনজীবী

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | ৩:২৭ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া চার্জশিটকে মনগড়া উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন তার আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে তার চেম্বারে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় তার পাশে মিন্নি এবং মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী সঙ্গে মিন্নির সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে জেড আই খান পান্না বলেন, ‘ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে।’

তিনি বলেন, ‘চার্জশিটের কথা তো আগাগোড়া বলেছি, এটি একটি মনগড়া উপন্যাস। মূলত মূল আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্যই এ ধরনের কারবার করা হয়েছে। নাথিং নিউ।’

বিজ্ঞাপন

এ চার্জশিট জজ মিয়া এবং জাহালমের আরেকটা সংস্করণ বলেও উল্লেখ করেন মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

আইনজীবী বলেন, ‘যে জবানবন্দি প্রকাশ পেয়েছে আমি তো কোর্টে বসেই দেখেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত যখন আমাদের দেখাতে দিতে বলেছিল, তখন এক নজর দেখেছি। সেটাও (১৬৪ ধারার জবানবন্দি) একটি উপন্যাস। সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি আদালতকে বলেছিলেন, এত সুন্দর করে লেখা যা চিন্তার বাইরে।

এ চার্জশিট প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগেই করা হয়েছে। মিন্নি নিজে জেলখানা থেকে এই আবেদন করেছে।’

এরপর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘রিমান্ডের নামে মিন্নিকে যে নির্যাতন করা হয়েছে তার ভয়াবহতা নিয়ে সে ভুগছে। তার হাঁটুতে ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা। এ কারণে তাকে ডাক্তার দেখাতে এসেছি।’

মিন্নির বাবা আরও বলেন, ‘রিমান্ডের সময় পুলিশ ওর মাথায় পিস্তল ধরেছে। নির্যাতন করেছে। ভয়-ভীতি দেখিয়েছে। এরপর থেকেই ও (মিন্নি) বিষণ্নতায় ভুগছে। ওর চিকিৎসার একান্ত প্রয়োজন তাই ঢাকায় নিয়ে এসেছি।’

আরও পড়ুন: চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শের জন্য মিন্নি ঢাকায়

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালী একটি কুচক্রি মহলের কাছ থেকে মিন্নি রেহাই পেল না। যে কারণে সে আজকে সাক্ষী থেকে আাসমি। অনেক সময় আকার-ইঙ্গিতে বুঝতে পারছি আমাকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমি এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এর আগে সকালে মিন্নি তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর, নানা জাকির শিকদার তার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে তার চেম্বারে আসেন।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় মিন্নি তার স্বামী বাঁচাতে চেষ্টা করছেন— এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে প্রকাশ পাওয়া অন্য ভিডিওতে মিন্নির আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয় বলে দাবি করেন রিফাতের পরিবার সদস্যরা। মিন্নিও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত— এমন অভিযোগ এনে তারা রিফাতকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

পরে পুলিশ প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তাকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনেই মিন্নিকে আদালতে নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিকে, রিফাত হত্যার পরদিন তার বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচ জনকে আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এখন পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামিসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে মিন্নিসহ মোট ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রিফাত হত্যা মামলায় গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। ওই অভিযোগপত্রে মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে বর্তমানে জামিনে আছেন মিন্নি।

সারাবাংলা/এজেডকে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন