বিজ্ঞাপন

এমআইএসটিতে ঢাবির ২ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ‘অশালীন আচরণ’র অভিযোগ

September 22, 2019 | 7:45 pm

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

রাজধানীর মিরপুরে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি (এমআইএসটি) আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে মাঝ পথে তা বর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দল। অভিযোগ উঠেছে, এমআইএসটি’র একজন শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের দুই প্রতিযোগীর পোশাক নিয়ে ‘অশালীন মন্তব্য’ ও ‘হয়রানি’ করার পর দলটি এই সিদ্ধান্ত নেয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাবি দলটি অভিযোগের আঙুল তুলেছে এমআইএসটি’র ডিপার্টমেন্ট অব সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের বিভাগীয় প্রধান কর্নেল মো. মামুনুর রশীদ, এএফডাব্লিউসি, পিএসসি’র দিকে। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানিয়েছে।

ঢাবি প্রতিযোগিদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক প্রকাশ্যে তাদের ‘উলঙ্গ’ ও ‘অর্ধ উলঙ্গ’ বলেছেন। অথচ তারা শালীন পোশাক পরেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছিলেন বলেই তাদের দাবি।

বিজ্ঞাপন

যে দুই শিক্ষার্থী তাদের ভাষায় এই ‘অশালীন’ মন্তব্যের শিকার হয়েছেন তারা হচ্ছেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের নেওয়াজ শরিফুল হক ও উম্মে হাবিবা।

ভুক্তভোগীরা বলেন, মূল প্রতিযোগিতা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে প্রতিযোগিতাস্থলে হাজির হয়ে একজন শিক্ষকের এমন মন্তব্য অশালীন ও অমর্যাদকর। এছাড়া প্রতিযোগিতায় তাদের মোরাল ভেঙে দিতেই ওই শিক্ষক এমন মন্তব্য করেছেন বলেও মনে করেন তারা।

এমআইএসটি লিটারেচার অ্যান্ড কালচারাল ক্লাব এই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‘অঙ্কুর ২০১৯’-এর আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংস্কৃতিক সংগঠন এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

ঢাবি দল জানায়, ঘটনার প্রতিবাদে কেবল তারাই নয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরাও এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিযোগিতা বর্জন করেছেন।

ঘটনার বর্ণনায় ঢাবি দলের একাধিক প্রতিযোগী সারাবাংলাকে জানান, তাদের দলের পরিবেশনা শুরুর ১৫ মিনিট আগে এমআইএসটি’র শিক্ষক মামুনুর রশীদ সেখানে হঠাৎ উপস্থিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিমের নেওয়াজ শরিফুল হক ও উম্মে হাবিবার পোশাক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। প্রকাশ্যে তাদের ‘উলঙ্গ’, ‘অর্ধ উলঙ্গ’ বলে মন্তব্য করতে থাকেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলকে প্রতিযোগিতাস্থল থেকে চলে যেতেও বলেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায় ঢাবি দল। তাদের সঙ্গে বিইউপি কালচারাল ক্লাব ও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরাও প্রতিবাদে অংশ নেন। এসময় এমআইএসটি লিটারেচার অ্যান্ড কালচারাল ক্লাবের নেতারা পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করলেও ওই শিক্ষকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ চলতেই থাকে।

পরে প্রতিবাদ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ অনুষ্ঠান বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তার আগে মঞ্চে গিয়ে উপস্থিত দর্শকের সামনে জানতে চায়, দর্শকের কাছে তাদের কোনো সদস্যের পোশাক অশালীন মনে হয়েছে কি না। উত্তরে সমস্বরে দর্শকরা ‘না-সূচক’ উত্তর দেয়। এরপর তারা মঞ্চেই মাইক্রোফোন হাতে পুরো ঘটনা বর্ণনা এবং অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। দর্শকরাও তাদের এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য এরপর জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট ও বিইউপি কালচারাল ক্লাবও অনুষ্ঠান বয়কট করে।

এ বিষয়ে ডাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন, এমআইএসটি’র একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ অংশ নেয় এবং এমআইএসটি’র একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।

অকারণে একজন শিক্ষার্থীর ‘উলঙ্গ’ বলা যৌন নিপীড়নের সামিল— এমন মন্তব্য করে এই ডাকসু নেতা বলেন, আশা করি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি বিবেচনা করে এমন অশালীন মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চার সামনে তা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের মডারেটর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ বরাবরই শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক মননে বিশ্বাস করে। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকি এবং অনাচারের বিরোধিতা করি। দায়িত্বশীল পদে কর্তব্যরত একজন শিক্ষক একজন নারী শিক্ষার্থীর প্রতি যেসব অপমানজনক ও ‘যৌন হয়রানিমূলক’ কথা বলেছেন, আমি তার নিন্দাজ্ঞাপন ও কঠোর প্রতিবাদ করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমআইএসটি’র সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কর্নেল মো. মামুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে এ বিষয়ে এমআইএসটি লিটারেচার অ্যান্ড ড্রামা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট খন্দকার ফাহিম আনজুম সারাবাংলাকে বলেন, একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। দুই পক্ষের মধ্যে মিউচুয়াল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিমটি তা মানতে চায়নি।

সারাবাংলা/কেকে/এমএম/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন