রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ৫ লাখ টাকায় ‘মীমাংসা’

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | ৭:১১ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পূর্ব কেরোয়া এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বেলায়েত হোসেন নামে এক স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে শিশুটির পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে না দিয়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকায় ‘মীমাংসা’ করে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্কুল শেষে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফেরার পথে তাকে চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পাশের বাসায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান বেলায়েত। পরে শিশুটির চিৎকারে সবাই ছুটে এসে শিশুটিকে সেখান থেকে নিয়ে যান।

শিশুটির মা ওই শিশুর স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের এ ঘটনা জানিয়ে বিচার দাবি করেন। পরে রায়পুরে এক মানবাধিকারকর্মীর কার্যালয়ে বেলায়েত হোসেনসহ ওই স্কুলছাত্রীর মা ও দাদা উপস্থিত হয়ে ৫ লাখ টাকায় আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্তে সমঝোতা করেন।

স্কুলশিক্ষিকা সুমি আক্তার জানান, চকলেটের লোভ দেখিয়ে আমাদের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই ছাত্রীর মা স্কুলে এসেছিলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বিচারের জন্য আমরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা না করে সালিশের মাধ্যমে সমাধান চান। পরে সেটাই হয়েছে। এমন প্রবণতায় থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত বেলায়েত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করলেও ‘মীসাংসা’র বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে আদর করেই চকলেট দিয়েছি। এর বেশি কিছু নয়। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা মিথ্যা।

অপরাধ না করলে সালিশে ‘মীমাংসা’ করেছেন কেন— জানতে চাইলে বেলায়েত বলেন, মানসম্মানের দিক তাকিয়ে রায়পুরের একটি মানবাধিকারকর্মীর অফিসে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে এ ঘটনা মীমাংসা হয়ে গেছে।

ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয়ভাবে ‘মীমাংসা’ করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসীও। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা না গেলে তাদের অপরাধের প্রবণতা কমবে না।

জানতে চাইলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোতা মিয়া বলেন, এ ধরনের ঘটনা গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে মীমাংসার বিষয় না। এটি স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। তবে এখনো কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেব।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন