রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

মিল্কি হত্যা মামলা: ৬ বছরেও শুরু হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যা মামলার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। এ ঘটনার আড়াই বছর পর দ্বিতীয় দফায় ১৮ আসামির বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করলেও আইনি জটিলতার কারণে তা এখনো শুরু হয়নি।

বিজ্ঞাপন

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সারাবাংলাকে জানান, মামলাটি বর্তমানে সাক্ষীর পর্যায়ে আছে। এর আগে আসামিপক্ষ অভিযোগ গঠনে ক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। কিন্তু হাইকোর্টে বিচারিক আদালতের আদেশ দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় আবার তা সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে চলে এসেছে। বর্তমানে কোনো বাধা না থাকলেও গত শুনানিতে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনও শুরু করা যায়নি।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উল্লাহ সারাবাংলাকে বলেন, বিচারিক আদালতের অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করি। এতে হাইকোর্ট এ মামলায় বিচারিক আদালতের আদেশ দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু আমরা সেই আদেশ দাখিল করতে পারিনি। যার ফলে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বিচার শেষে আমার আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হবে বলে আশা করছি। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এস মোহাম্মদ আলীর আদালতে বিচারাধীন।

মিল্কি হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে গুলশান ১ নম্বর শপার্স ওয়ার্ল্ড নামে একটি বিপণি বিতানের সামনে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময় বিপণি বিতানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র দেখে মিল্কির একসময়ের সহযোগী যুবলীগের আরেক নেতা জাহিদ সিদ্দিকী তারেকসহ ভাড়াটে খুনিরা তাকে হত্যা করেছে বলে জানায় পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

ওই ঘটনার পরের দিন মিল্কির ছোট ভাই রাশেদুল হক খান বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির এজাহার নামায় ১১ জন এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের কথা উল্লেখ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরের বছর মামলার তদন্ত শেষে ১৫ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাব-১-এর সহকারী পরিচালক কাজেমুর রশিদ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৪ সালের ৯ জুন মামলার এ বাদী নিহত মিল্কির ভাই রাশেদ হক খান নারাজি দাখিল করে আবার অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়ার আবেদন করেন। ১৭ জুন সেই আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে তদন্তের ভার দেন আদালত।

২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (সিআইডি) উত্তম কুমার বিশ্বাস অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আগের অভিযোগপত্রে ১১ আসামির সঙ্গে আরও সাত জনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এছাড়া ৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও করে পুলিশ।

২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এস মোহাম্মদ আলী অভিযোগ গঠন করে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ঠিক করেন। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিলের জন্য আগামী ২৮ অক্টোবর দিন নির্ধারিত আছে।

এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ আসামির মধ্যে চার জন পলাতক ও ১৪ জন জামিনে রয়েছেন। মামলাটিতে ৭৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

সারাবাংলা/এআই/জেডএফ

বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন