রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে আদালতকে নগ্নভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে: রিজভী

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯ | ২:১৯ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অতীতে কখনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে আদালত যুক্ত হচ্ছে বা হস্তক্ষেপ করছে এমনটা দেখিনি। আর এখন ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্য আদালতকে নগ্নভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ  বিএনপিকে এতই ভয় পায় যে ছাত্রদলের কমিটি নিয়েও তাদের গায়ে জ্বালা ধরেছে।

রিজভী বলেন, আরপিও দ্বারা সিদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোনো কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এখতিয়ার আদালতের নেই।  এর আগে সোমবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন আদালত।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার গণতান্ত্রিক পথে হাঁটতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার নিজেও গণতন্ত্র চর্চা করছে না, আমাদেরকেও করতে দিচ্ছে না ।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সম্মেলন এবং নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছিল। কিন্তু গত ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার অফিস টাইম শেষ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে আদালতের রায়ের দোহাই দিয়ে ছাত্রদলের কাউন্সিলকে বানচাল করার জন্য ১২ জন সাবেক ছাত্র নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরপ করে সরকার।’

‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, ক্ষমতার অপব্যাবহার করে আদালত রায়ের নামে এমনভাবে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করলেন, যাতে রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সুযোগ না পায় ছাত্রদল। এই রায়ের আসল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রদলের কাউন্সিলকে বানচাল করা’— বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রে যখন ক্ষমতাসীনরা স্বৈরাচারী আচরণ করে, দুর্বৃত্তপরায়ণ হয়ে ওঠে তখন গণতন্ত্রকামী মানুষের শেষ আশ্রয় হয় আদালত। কিন্তু জনগণ উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, এখন আদালত যেন হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীনদের অশুভ ইচ্ছা বাস্তবায়নের হাতিয়ার ‘

রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘সারাদেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমপক্ষে ৩৬ লাখ। দেশে এতো মামলা রেখে ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ করা দূরভিসন্ধিমূলক। যে দেশের মানুষ বিচার চেয়েও পায় না, আর ছাত্রদলের গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার বিরুদ্ধে হুটহাট মামলার রায় বের করে নিয়ে আসতে একঘন্টা সময় লাগে না।’

তিনি বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা দেখে মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আদালতও সরকারের বিশ্বস্ত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জনগণ আশা করে আদালত হবে জনগণের শেষ আশ্রয়, ক্ষমতাসীনদের অস্ত্র নয়। আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, আদালতকে দলীয়করণের দিকে নিয়ে যাওয়া দেশের জন্য ও জাতির জন্য শুভ হবে না।

রিজভী বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটি গঠন, শোকজ নোটিশ ছাড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেওয়া, দুই জনকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া- সব কিছু অবৈধ। অথচ আদালত এসব নিয়ে নিশ্চুপ। আদালত যদি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন হতো, তাহলে আরপিও ভঙ্গ এবং দস্যুভিত্তিক কর্মকাণ্ড আমলে নিয়ে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্তি করে দিতেন। আওয়ামীলীগ হাইকমান্ডকে শোকজ করতেন।’

ছাত্রদল এখন পর্যন্ত যা কিছু করেছে, তার সবই আইনসম্মত— এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘ ছাত্রদল একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব নির্ধারণ করেছে। কাউন্সিলারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এই কমিটি। আইনের বিধানে, রাজনৈতিক দল বা তাদের কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় আদালতের এখতিয়ারে পড়ে না— এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের একাধিক রায় রয়েছে। আরপিও ১৯৭২ এবং ১৯৭৮ অনুসারে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। এই দল বা তার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মকাণ্ডের ওপরে সহকারী জজ আদালত বা নিম্ন আদালতের কোনো আদেশ জারি বা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার এখতিয়ার নাই।’

রিজভী বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই স্মরণে আছে, ওয়ান ইলেভেনের তথাকথিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির মহাসচিব পদ নিয়ে তারা কোর্টে গিয়েছিল। কোর্ট ওই সময়ে পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন যে, কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না, সেই এখতিয়ার আদালতের থাকা উচিত নয়। এটা ছিল তখন আদালতের পর্যবেক্ষণ।’

সারাবাংলা/এজেড/জেডএফ

বিজ্ঞাপন

Tags: , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন