রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চড়া দামে বিক্রির আশায় পেঁয়াজ মজুদ

অক্টোবর ১, ২০১৯ | ৪:২১ পূর্বাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাড়তি দাম আর ক্রেতা কমে যাবার সুযোগে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের মজুদ করছেন। চড়া দামে বিক্রির আশায় মজুদের উদ্দেশে আড়তদার ও পাইকারি বিক্রেতারা বাড়তি দাম হাঁকিয়ে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে, ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে খুচরা বিক্রেতারা আর পেঁয়াজের বাজারমুখী হচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের খবর পৌঁছে। এরপরই পাইকারি এবং খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় কেজিপ্রতি অন্ত:ত ২০ টাকা। একদিন পরেই পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। খুচরা দোকানের অবস্থাও একই।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার দুপুর পর্যন্ত খাতুনগঞ্জে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিক জেলা ও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায়। রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানার পর সাথে সাথেই কেজিপ্রতি ৭২-৭৫ টাকা দাম হাঁকতে শুরু করেন পাইকারি বিক্রেতারা। ভারতের রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত আসার পর বেড়ে গেছে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও। রোববার দুপুর পর্যন্ত মায়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৫১ টাকায়। সিদ্ধান্ত জানার পর সেটা বেড়ে হয় ৬৮-৭০ টাকা।

সোমবার খাতুনগঞ্জে ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে ১০০ টাকায়। আর মিয়ানমারের পেঁয়াজও বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

বিজ্ঞাপন

খাতুনগঞ্জের বড় পেঁয়াজের বাজার হামিদউল্লা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মার্কেটে আমরা ভারতের পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৯০ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০-৮২ টাকায় বিক্রি করেছি। কেউ কেউ এর চেয়েও বাড়তি দাম চেয়েছে। যেহেতু বর্ডারে মাল নেই, এ সুযোগে কিছু বাড়তি টাকা নিতে চেয়েছে। তবে লাভ হয়নি। কারণ মার্কেটে পেঁয়াজ কেনার লোক নেই।’

খাতুনগঞ্জের মের্সাস হাজী অছি উদ্দিন সওদাগরের মালিক রহুল আমিন চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) সারাদিন খাতুনগঞ্জের চট্টগ্রামের কোনো ক্রেতা ছিল না। কুমিল্লা, উত্তরবঙ্গ থেকে লোকজন এসে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ডিমান্ড খুব কম। যে ২০ মণ কিনত, সে কিনছে ২ মণ।’

মো. ইদ্রিস সারাবাংলাকে জানান, খাতুনগঞ্জে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ কাভার্ড ভ্যানে কমপক্ষে ৩০০ টন পেঁয়াজ ঢোকে। গত দু’দিন ধরে মিয়ানমারের ২-৪ মেট্রিকটনের বাইরে পেঁয়াজ বাজারে আসেনি। প্রতিদিন পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২৫০ টন। গত দু’দিনে পেঁয়াজ বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বাড়তি দামের কারণে পাইকারি বাজারে ক্রেতা আরও কমে গেছে বলেও স্বীকার করেছেন মো.ইদ্রিস।

বাড়তি দাম হাঁকিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে আড়তদার ও পাইকারি বিক্রেতারা পেঁয়াজ মজুদের কৌশল নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।

নাজের সারাবাংলাকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুর ১২টা পর্যন্ত খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজই বিক্রি হয়নি। ভারত রপ্তানি বন্ধ করেছে গতকাল (রোববার)। খাতুনগঞ্জে এখন যেসব পেঁয়াজ আছে সব আগের দামে কেনা। তাহলে রপ্তানি বন্ধের সাথে সাথে সেই পেঁয়াজের দাম বাড়ল কেন ? মায়ানমারের পেঁয়াজের দাম কেন বাড়িয়ে দেয়া হল ? এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি। দাম বাড়িয়ে বাজারে একটা ক্রাইসিস তৈরি করেছে। ক্রেতা যখন আসছে না, তখন অবিক্রিত পেঁয়াজ মজুদ করছে। কয়েকদিন পর আরও বাড়তি দামে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়বে। সরকারের নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেমেছে।’

এ অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস সারাবাংলাকে বলেন, ‘দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা কমেছে। এতে কিছু পেঁয়াজ আড়তে থেকে যাবে, সেটা অস্বীকার করব না।’

ব্যবসায়ী রহুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলবে। পেঁয়াজ হচ্ছে কাঁচাপণ্য। এটা মজুদ করা যায় ? এক বস্তা পেঁয়াজ দুইদিন আড়তে রাখলে অর্ধেক পচে যায়। বাজারে যদি কেনার লোক না থাকে, আমাদের লস। কারণ পেঁয়াজ পচে যাবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি জাহাজে করে মিশর থেকে ১৩ কনটেইনারে প্রায় ২৫০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ এসেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে এই পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের বাজারে আসবে। তবে এই পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের একদিনের চাহিদার যোগান দেবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করলেও বাজারে সুফল আসবে না। ভারত থেকে যতদিন পেঁয়াজ দেশের বাজারে না ঢুকবে, ততদিন দাম কমবে না। কারণ, দেশের বাজারে ভারতের পেঁয়াজের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

সারাবাংলা/আরডি/জেআইএল/আরএফ

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন