বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বাংলাদেশ

অক্টোবর ১, ২০১৯ | ৮:৫২ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন ও এর সাইডলাইনে বিভিন্ন বৈঠকের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজিস) শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ এক সেমিনার। সেমিনারে বক্তরা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে অনেক বাধা রয়েছে। এসব বাধা অতিক্রম করতে হলে মানুষকেই সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। আর এজন্য দরকার মানুষের ক্ষমতায়ন। তবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ: রোড টু এসডিজি, দ্য রোল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি টু অ্যাচিভ দ্য গোল উইদিন ২০৩০’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এ সেমিনারটি আয়োজন করে পিপল এন টেক ফাউন্ডেশন। সেমিনারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসডিজিসবিষয়ক সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পিপল এন টেকের সিইও এবং পিপল এন টেক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিপ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে অনেক বাধা রয়েছে। এসব বাধা অতিক্রম করতে হলে মানুষকেই সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। আর এজন্য দরকার মানুষের ক্ষমতায়ন। মানুষকে ক্ষমতায়ন করতে হলে কয়েকটি বিষয় অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। সেগুলো হলো- দারিদ্র দূরীকরণ, গুণগত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি শিক্ষা, অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার যারা তাদের অন্তর্ভুক্তিকরণ ইত্যাদি। এসব বিষয়ে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০১১ সালে তিনি জাতিসংঘের সেকেন্ড কমিটির চেয়ারম্যান থাকার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবে ‘পিপলস অ্যাম্পাওয়ারমেন্ট : ম্যান অ্যান্ড উইম্যান’ পাস হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে আবুল কালাম আজাদ ডিজিটাল উপস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন কী, কীভাবে তা অর্জনের পথে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ- তা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘১৭টি অভিষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে বেশিরভাগই অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাকিগুলোও অর্জনের পথে রয়েছি আমরা। এর মধ্যে দুয়েকটি লক্ষ্য বাংলাদেশের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়। বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে চলছে তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজিস বাস্তবায়নে সক্ষমতা অর্জন সম্ভব।’

স্বাগত বক্তব্যে পিপল এন টেকের প্রতিষ্ঠাতা সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিপ জাতিসংঘের ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও এসডিজিসবিষয়ক সেমিনারে অংশ নেয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘মানুষের ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে প্রস্তাব জাতিসংঘে পাস হয়েছে, পিপল এন টেক দেশে বিদেশে সেই ক্ষমতায়নেরই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ হাজার মানুষকে আইটি প্রশিক্ষণ দিয়ে উন্নত বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে পিপল এন টেক। যাদের বেশির ভাগই আগে অড জব করতেন। তারা এখন বছরে ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলার বেতনে চাকরি করছেন।’

ইঞ্জিনিয়ার হানিপ বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক মেধাবীই বিদেশে এসে আর দেশে ফিরে যাননি। তাই বিদেশে আমাদের মেধাপাচার বা ব্রেইন ড্রেইন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু আমরা যারা বিদেশে আছি তারা যদি এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের কল্যাণে কাজে লাগতে পারি তাহলে এটি ‘ব্রেইন কন্ট্রিবিউটিং এগেইন’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি কোনোদিন বছরে ৫০ হাজার ডলার বেতনে কাজ করবেন আবু বকর হানিপ তাদের ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ডলার বেতনে চাকরি পাইয়ে দিচ্ছেন। এজন্য হানিপকে আমি সব সময় ‘ম্যাজিক ম্যান’ বলে সম্বোধন করি। তিনি সত্যিই ম্যাজিক দেখিয়েছেন। তিনি এখন বাংলাদেশেও পিপল এন টেকের কার্যক্রম বিস্তৃত করেছেন।’

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পিপল এন টেক যেভাবে মানুষকে ক্ষমতায়ন করছে এভাবে সবাই এগিয়ে এলে আমরা দ্রুত আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।’

আবু বকর হানিপ জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশে তিনি পিপল এন টেকের কার্যাক্রম শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি দেশের প্রতিটি উপজেলায় পিপল এন টেকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান। তাহলে অচিরেই ভারতের মতো বাংলাদেশেও আইটি ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা, ডা. মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান সেকিল চৌধুরী, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজাউল করিম রেজনু প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য দেন পিপল এন টেকের সাবেক দুই শিক্ষার্থী মারুফ আহমেদ ও ইসরাত জাহান ইভা। অনুষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে সফলতার গল্প শোনান তারা। সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক হাসানুজ্জামান সাকী। সেমিনারের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল এরআরবি কানেক্ট।

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন