বৃহস্পতিবার ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বীমা খাতের ইমেজ সংকট কাটাতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

অক্টোবর ২, ২০১৯ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

শেখ কবির হোসেন। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট এবং সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেম্বার অব গভর্নরস ও বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য। বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের সাবেক আন্তর্জাতিক পরিচালক হিসাবে দেশে-বিদেশে লায়ন আন্দোলনের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি দেশি ও আন্তর্জাতিক নানা সংস্থার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি বাংলাদেশের বীমা খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে সারাবাংলা ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন বিআইএ প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সারাবাংলার স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট টুটুল রহমান। তাদের কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: বীমা খাতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।এক্ষেত্রে আপনাদের সফলতা কতটুকু?

শেখ কবির হোসেন: বাজার দেখলেই বুঝতে পারবেন যে সফলতা কতটুকু। যে উদ্যোগগুলো নিয়েছি তাতে আমরা খুব আশাবাদী। ভবিষ্যত খুব ভালো। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বলা হয়, ইন্স্যুরেন্স খাত শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। ইন্স্যুরেন্স গ্যারান্টি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে সেটা হতে যাচ্ছে। এখন বীমা খাতে প্রবৃদ্ধির হার পয়েন্ট জিরোর নিচে। এবার ইন্স্যুরেন্সে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। কারণ ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের ইমেজ সংকট কাটাতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এখন থেকে ১৫ শতাংশ কমিশনের মধ্যে পয়েন্ট ৫ শতাংশ থাকবে ভ্যাট-ট্যাক্স। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়াম্যান ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে আলোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আরেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ডিসেম্বর পর্যন্ত এক কোম্পানির ব্যবসা আরেক কোম্পানি নেবে না। এ ব্যাপারে কারও যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি করে দিয়েছি, তারা সেই কমিটির কাছে অভিযোগ জানাবে।

সারাবাংলা: বীমার ডেভেলপমেন্ট খাতে কত লোক কাজ করছে? ১৫ শতাংশ কমিশন বেঁধে দেওয়ায় কোম্পানিগুলোর আয় বাড়বে। এতে ডেভেলপমেন্ট খাতের কর্মীরা সমস্যায় পড়বে কিনা? আর কোম্পানির ওই আয় ডেভেলপমেন্ট খাতের কর্মীদের জন্য ব্যয় হবে কি?

বিজ্ঞাপন

শেখ কবির হোসেন: বীমার ডেভেলপমেন্ট খাতের কর্মীদের পরিসংখ্যন আমাদের অ্যাসোসিয়েশনে নেই। তবে আমরা নিতে পারব। আমরা আস্তে আস্তে নেব। প্রত্যেকটা কোম্পানির আন্ডার রাইটার থাকে। তাদের সেকেন্ড ম্যান থাকে। কমিশন বেঁধে দেওয়ায় ডেভেলপমেন্ট খাতের কর্মীরা কোনো সমস্যায় পড়বে না। তারা তো ১৫ শতাংশ কমিশন পাবে। এটাই নিয়ম। তবে কেউ কেউ হয়তো ৭০ শতাংশ কমিশন দিত। সেটা ছিল উপরি। উপরি তো বৈধ না। এটা বন্ধ হলেই তো ভালো। সবাই সাধুবাদ জানাবে। যেমন: ক্যাসিনো বন্ধ করায় মানুষ তো খুশিই হচ্ছে। মানুষ চাচ্ছে এগুলোর সঙ্গে আরও যারা জড়িত আছে তাদেরকেও ধরা হোক। ঠিক তেমনি বীমা খাতে উপরি আয় আনহেলদি কমপিটিশন।

সারাবাংলা: বাংলাদেশের বীমা খাতে ইমেজ সংকট রয়েছে। এটা কাটাতে সংগঠনের উদ্যোগ কি?

শেখ কবির হোসেন: আমরা যে উদ্যোগগুলো নিয়েছি সেগুলো সফল হলে ইমেজ সংকট কেটে যাবে। ইমেজ সংকট বলতে ধরেন ‘ক্লেইম’ না দেওয়া। অনেক কোম্পানিই আছে বীমা ম্যাচিউর হলে ‘ক্লেইম’ দেয় না বা গ্রাহককে ঘুরায়। এসব কারণেই কিন্তু ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে। যখন এই কমিশনটা বাস্তবায়ন হয়ে যাবে তখন মানুষ রি-ইন্সুরেন্সসহ অন্যান্য সবই করবে। ‘ক্লেইম’ হলে কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের ডেকে এনে বীমার টাকা পরিশোধ করবে। তখন কিন্তু আমরা ইমেজ সংকটে থাকবে না। বর্তমানে আইডিআরে শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর নেতৃত্বে যে কমিশনটা আছে তারা খুবই যত্নবান এবং সচেষ্ট। তারা চেষ্টা করছেন ইমেজ সংকটটা কাটানোর। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন কোম্পানিতে গিয়ে ‘ক্লেইম’ দেওয়া হচ্ছে। এগুলো কিন্তু গণমাধ্যমে আসছে। এতে ইমেজ সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। আমরা তো মনে হয় ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব।

সারাবাংলা: বিশ্বে বীমা খাতকে অন্য মর্যাদায় দেখা হয়, বাংলাদেশে সেটা হয় না কেন?

শেখ কবির হোসেন: আমরা যারা ইন্সুরেন্স সেক্টরে আছি তারা মানুষকে আর্কষণ করতে পারি না। এটা একটা কারণ। আরেকটা হলো, মানুষের অনীহা। আসলে এখানে সরকারি নির্দেশের প্রয়োজন আছে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা প্রয়োজন যে, সব কিছুই ইন্সুরেন্সের আওতায় আনতে হবে। ফসল, গবাদি, হাওর এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের মতো বড় বড় বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সব সময় কথা বলেছি। বাংলাদেশে অনেক বড় বড় অগ্নিকাণ্ড হয়। এতে অনেক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এছাড়া আহত হয়ে অনেক মানুষকে দীর্ঘদিন ভুগতে হয়। যদি ইন্সুরেন্স করা থাকতো? তাহলে? আমরা সব সময়ই বলি যত স্থাপনা আছে, সব কিছুরই ইন্স্যুরেন্স থাকতে হবে। এখন দুর্ঘটনা ঘটলে সরকারকে কোষাগার থেকে সাহায্য করতে হয়। যদি ইন্স্যুরেন্স থাকে তবে বীমা কোম্পানিগুলোই সব ব্যয় বহন করবে। এটা আমরা সব সময়ই বলি। এ জন্য দরকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। এর পাশাপাশি প্রয়োজন সরকারের নির্দেশনা। কারণ সরকারের নির্দেশনা ছাড়া মানুষ কিছু করতে চায় না। আমরা এরই মধ্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি। কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রীর সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে, সেখানেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে একটা নির্দেশও দিয়েছেন। আগে বলেছিলেন অট্টালিকার জন্য ইন্স্যুরেন্স করতে হবে। এবার বলেছেন, সব স্থাপনাকে ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনতে হবে।

সারাবাংলা: ২৭ কোম্পানির শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে রয়েছে?

শেখ কবির হোসেন: কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসার ব্যাপারে এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমার মনে হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আবেদন করবে। তবে আবেদন করলেই কিন্তু বিএসইসি দেবে না। তাদের কতগুলো আইনকানুন আছে, সেগুলো মানতে হবে। এই শর্তগুলো যারা পূরণ করতে পারবে না, অথবা যাদের সামর্থ্য নেই নাই তারা হয়তো আবার আবেদন করবে। তবে আমরা চাই প্রত্যেকটা কোম্পানি শেয়ারবাজারে যাক।

সারাবাংলা: শোনা যাচ্ছে ৭৫ কোটি টাকার যে মূলধন বেঁধে দেওয়া হয়েছে এর কারণে অনেকেই আসতে পারবে না- এর সত্যতা কতটুকু?

শেখ কবির হোসেন: অনেকেই এতদিন মূলধন বাড়ায়নি। শেয়ারবাজারে না এসে তারা প্রতিদিন জরিমানা গুনছে। অথচ শেয়ারবাজারে আসার জন্য মূলধন বাড়াচ্ছে না। আমার মনে হয়, তারা এতদিন উদ্যোগ নেয়নি। যাদের দৃষ্টিভঙ্গি এ ব্যাপারে ভালো- তারা আসবে।

সারাবাংলা: নতুন নতুন প্রোডাক্ট তৈরিতে গবেষণা বা উদ্যোগ আছে কি?

শেখ কবির হোসেন: গবেষণা নাই। তবে প্রতিটি কোম্পানিকে নতুন প্রোডাক্ট তৈরির ব্যাপারে বলা আছে। আমরা আইডিআরকেও বলেছি, উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন প্রোডাক্ট আপনারাও আনেন। যেমন: সবধরনের স্থাপনার ইন্স্যুরেন্স একটি নতুন প্রোডাক্ট। আরও নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনার জন্য বলা হচ্ছে।

সারাবাংলা: দেশে কোনো অর্থনৈতিক সংকট লক্ষ্য করেন কি?

শেখ কবির হোসেন: আমার তো মনে হয় না কোনো সংকট আছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সংকটটা থাকবে কেন?হয়তো ম্যানেজমেন্টের কোনো কোনো জায়গায় অসুবিধা আছে; যার জন্য এই সংকটটা ওই সমস্ত জায়গায় দেখা দিচ্ছে। আমি মনে করি অর্থনীতিতে কোনো সংকট নেই।

সারাবাংলা: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

শেখ কবির হোসেন: সারাবাংলাকেও ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন