বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা উপন্যাস নিয়ে লেখক আড্ডা

অক্টোবর ৭, ২০১৯ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা কথাশিল্পী ও সাংবাদিক মোস্তফা কামালের তিন উপন্যাস নিয়ে প্রাণবন্ত লেখক আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র এ আড্ডায় যোগ দেন কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এ ‘দ্বিতীয় বইআড্ডা’র আয়োজন করে শ্রাবণ প্রকাশনী। সহযোগিতায় ছিল ঢাকা ইনিশিয়েটিভ।

শেখ মুজিবকে নিয়ে লেখা, অগ্নিকন্যা’, ‘অগ্নিমানুষ’ ও ‘অগ্নিপুরুষ’- এ উপন্যাসগুলোতে কখনও প্রত্যক্ষ, কখনও পরোক্ষভাবে তাকে চিত্রিত করেছেন লেখক  মোস্তফা কামাল। এসব উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এর সময়কাল।

আড্ডায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, আমি খুব বেশি বই পড়ি না। তবে যখন পড়ি, তখন মন দিয়ে পড়ি। মোস্তফা কামালের লেখা আমি মন দিয়ে পড়েছি। তিনি ইতিহাসের সত্য ঘটনাকে উপস্থাপনের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আর কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ছিলেন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, অগ্নিপুরুষ-এই একটি শব্দ ব্যবহার করে মোস্তফা কামাল উত্তাল সময়কে তুলে ধরেছেন। এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা বড় কোনো ইতিহাস বই পাঠ না করে, উপন্যাস তিনটি পড়ে ইতিহাস জানতে পারবে। এরপর তারা নিজেদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে জেনে নিতে পারবে। তাদের কাছে নতুন দিক উন্মোচন করবে। ইতিহাস পাঠ করার পাশাপাশি ইতিহাসের মানুষদেরও জানতে পারবে। সময়ের চিত্রকে উপন্যাসে চিত্রিত করা বড় কারিগরের কাজ। সে কাজটি মোস্তফা কামাল করেছেন।

মোস্তফা কামাল বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে লেখালেখি শুরু করলেও, নিয়মিত লিখছি ১৯৯১ সাল থেকে। আমি প্রতিদিন লেখি। এটা আমার কাছে প্রার্থনার মতো। বড় একটি কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। আমি ১৮ বছর টানা ইতিহাসভিত্তিক বই পড়া শুরু করি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সময়কালের উপরে প্রচুর বই বের হয়েছে। কিন্তু ভালো কোনো কাজ হয়নি।

তিনি বলেন, আমি ইতিহাসের বইকে কঙ্কাল বলি। লেখকেরা সেই কঙ্কালে জীবন দান করেন। আমি সেই চেষ্টা করেছি মাত্র। বঙ্গবন্ধু ও সময়- উপন্যাসগুলোর মূল চরিত্র। ইতিহাসের মূল লক্ষ্য সত্যনিষ্ঠা। এটা উপন্যাসে তুলে ধরা কঠিন কাজ।

কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান বলেন, সাংবাদিকতা সহায়ক পাঠ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু একটা সময় সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে হবে। মোস্তফা কামাল বড় সাংবাদিক হয়েও, এত মোটা মোটা বই লিখছেন এটা বিস্ময়কর। এ কারণে তাকে শ্রদ্ধা জানাই।

আলোচক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস তিনটিতে মোস্তফা কামাল যে সময়কে তুলে ধরেছেন, সে সময়ের মানুষের মনোজগত পাঠ করেছেন। যা বিরল। ফলে ইতিহাস পাঠ করা পাঠকের কাছে এটি ভিন্ন স্বাদ দিচ্ছে।

শ্রাবণ প্রকাশনীর রবিন আহসান বলেন, শহর জীবনে অনেক আড্ডা এখন আর নেই। সেখানে আমরা বইআড্ডার আয়োজন করছি। বইমেলার পর বই নিয়ে সেভাবে আলোচনা বা সমালোচনা হয় না। বইমেলার বাইরেও যে বইয়ের একটি সংস্কৃতি রয়েছে। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা বইআড্ডার আয়োজন করছি।

বইআড্ডা শেষে ছিলো বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতার আবৃত্তি। আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ, নাজমুল আহসান, জাহান বশির, মাহফুজ আহসান, মাসুদুজ্জামান, মাসুম আজিজুল বাসার, আবু নাসের মানিক, নাঈমা রুম্মান, লিজা চৌধুরী, পলি পারভীন, ফারজানা ইসলাম, আহমেদ মাসুম ও শ্রাবণী আক্তার।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাজী নুসরাত শারমীন।

অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার কালের কণ্ঠ ও জিটিভি।

সারাবাংলা/এসএ/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন