বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘পারিশ্রমিক’ প্রশ্নে শিল্পী সমিতির কাদা ছোড়াছুড়ি

অক্টোবর ৯, ২০১৯ | ৩:৩৮ অপরাহ্ণ

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে চলছে পাল্টাপাল্টি কথার আক্রমন। উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী হাওয়া। গত নির্বাচনে মিশা সওদাগর–জায়েদ খান প্যানেলে থাকা রিয়াজ, ফেরদৌস, পপির মতো অভিনয়শিল্পীরা এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে বেরিয়ে গেছেন প্যানেল থেকে। অবস্থান নিয়েছেন মিশা-জায়েদ খানের বিপক্ষে। করেছেন অস্বচ্ছতার অভিযোগ।

বিজ্ঞাপন

তাদের করা অস্বচ্ছতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। তিনি অভিযোগ খন্ডন করার পাশাপাশি রিয়াজ, ফেরদৌস, পপির বিরুদ্ধে তোলেন পাল্টা অভিযোগ। বলেন, ‘আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিল্পীদের জন্য আট লাখ টাকার একটি ফান্ড করেছিলাম। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে একটা অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নিলাম। সেখান থেকে যা আয় হবে তা কল্যাণ ফান্ডে থাকবে। আমি পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। শিল্পী সমিতির মিটিংয়ে কেউ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে রাজি হননি। সেখান থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে গেল এই কমিটির লোক। রিয়াজ, ফেরদৌস, পপিরা পঞ্চাশ হাজার করে টাকা নিয়ে গেছেন।’

শিল্পী সমিতির বার্ষিক বনভোজনে রিয়াজ ও শাবনুর। ছবি: সংগৃহীত
শিল্পী সমিতির বার্ষিক বনভোজনে রিয়াজ ও শাবনুর। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন

জায়েদ খানের এরকম অভিযোগের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হয় চিত্রনায়ক রিয়াজের সঙ্গে। সারাবাংলা ডট নেটকে রিয়াজ বলেন, ‘জায়েদ খান যা বলছেন তা নোংরা মানসিকতার পরিচায়ক। তিনি যে অনুষ্ঠানটির আয়োজনের কথা বলছেন সেটি শিল্পী সমিতি করেছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার কিছু ভূমিকা ছিল। তিনি যে বলে বেড়াচ্ছেন, আমি টাকা নিয়েছি। ওটা অনারিয়াম ছিল না। শুধু পোশাক ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য টোকেন মানি হিসেবে কিছু টাকা নিয়েছি। যে কোনো শিল্পীর পারফর্ম করার ক্ষেত্রে সম্মানি দেওয়া ও পোশাকের কিছু ব্যাপার থাকে।’

এসময় তিনি বিষয়গুলো এতদিন গোপন রাখার কারণ জানাতে গিয়ে বলেন, ‘জায়েদ খান এতদিন এসব বিষয়ে কথা বলেননি কেনো? এটি তার একটি নির্বাচনী দূরভিসন্ধি। তিনি যে আট লাখ টাকার কল্যাণ তহবিলের কথা বললেন, সেই টাকা এর থেকে বেশি অংকেরও হতে পারে। কারণ তিনি আমাদের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এমনকী আমার ধারণা তিনিও সেই অনুষ্ঠান থেকে টাকা নিয়েছেন। তাছাড়া অনুষ্ঠান তো শুধু একটা হয়নি। আরও অনেক অনুষ্ঠান করেছি আমরা। সেই টাকা পয়সার হিসাব তিনি আমাদের দেখাক। তাহলে বুঝব তিনি তার জায়গা থেকে সৎ।’

রিয়াজের মতে জায়েদ খান নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিনিয়ার শিল্পীদের সম্পর্কে অপপ্রচার করছেন। এসব ঘৃণিত কাজ থেকে তাকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শিল্পী সমিতি থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন চিত্রনায়িকা পপি। তার মতে, জায়েদ খান মিথ্যা কথা বলছেন। পপির ভাষ্য, ‘জায়েদ খান ছোট মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। আমি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন না। অনেক বছর ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছি। শুধু আমি না, রিয়াজ ও ফেরদৌস এই ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় নায়ক। আমরা সিনেমার স্বার্থে অনেক কাজ করেছি। এমন অনেক প্রযোজক আছে যাদের কাছে আমি এখনো টাকা পাই। অনেক প্রযোজক ও পরিচালককে সাহায্য করেছি। জায়েদ খান বলছেন আমি স্টেজ শো করে টাকা নিয়েছি, আমি তাকে বলব, টাকা নেওয়ার ভাউচার দেখাতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের নেতৃত্বে অনেকগুলো স্টেজ শো করেছি। ইভেন্ট করেছি। সেসব অনুষ্ঠানে পারফর্ম করা বাবদ তিনি একটি টাকাও দেননি। শিল্পীদের কল্যাণ তহবিলের কথা তিনি বলছেন। সেই কল্যাণ তহবিলের কোনো অনুষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক নিয়েছি—এমন মিথ্যাচার বিশ্বাসযোগ্য না।’

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কথা বলা হয় জায়েদ খানের সঙ্গে। জবাবে জায়েদ খান বলেন, ‘তারা ভাউচারের কথা বলছেন। ভাউচার দেখালে তো বিষয়টি আরও নোংরামির হয়ে যাবে। তারা সিনিয়রশিল্পী। দেখুন, দুস্থ শিল্পীদের কল্যাণ তহবিলের অনুষ্ঠানে মেকআপ, পোশাকের জন্য কেনো টাকা নেবেন তারা? তাদের কি সামর্থ্য নেই। আমাদের সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাকির হোসেন নিজে টাকা দিয়েছেন তাদের। অথচ এখন তারা মিথ্যাচার করছেন।’

এক ফ্রেমে শিল্পী সমিতির সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত
এক ফ্রেমে শিল্পী সমিতির সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাকিরের কাছে টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনিও জায়েদ খানের কথার সঙ্গে সুর মেলান। তিনি বলেন, ‘পেমেন্ট করার শর্তেই তারা স্টেজে উঠতে রাজি হন। তারপর স্পটেই তাদের পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া হয়।’

ভাউচার থাকার কথা বললেও, সেটা দেখতে চাইলে সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাকির জানান, ভাউচার তার কাছে নেই, কোষাধ্যক্ষ ফরহাদের কাছে আছে। তিনি দেখাতে পারবেন।

জাকিরের কথা অনুযায়ী সারাবাংলা ডট নেটের পক্ষ থেকে ফরহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনিও ভাউচারের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ফরহাদ বলেন, ‘নরসিংদীতে যখন শিল্পীরা স্টেজ শো করেন তখন আমি বিদেশে ছিলাম। শুনেছি রিয়াজ, ফেরদৌস, পপিরা ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। কিন্তু ভাউচার আছে কিনা আমাকে দেখতে হবে।’

সারাবাংলা/আরএসও/পিএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন