শনিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

২০১১ নয় ২০০৫ নম্বর রুমে মারা যান আবরার, হত্যায় জড়িত ২২ জন

অক্টোবর ৯, ২০১৯ | ১১:০৭ অপরাহ্ণ

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে টর্চার করা হলে তিনি মারা যান ২০০৫ নম্বর কক্ষে দ্বিতীয় দফায় পেটানোর পর। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র সারাবাংলাকে এ সব তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, বুয়েট শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে অন্তিম, রাফি, মিজান ও আবরার থাকতেন। জেমি নামে এক শিক্ষার্থী আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে বড়ভাইয়েরা ডাকছে বলে ডেকে নিয়ে যান। সঙ্গে তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যান। সেখানে প্রথম দফা পেটানোর পর জেমি ১০১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে আবরারের শার্ট নিয়ে আসে। এরপর তাকে কয়েকজন মিলে চ্যাংদোলা করে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে কয়েকদফা পেটানো হয়।

আবরার হত্যায় জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রিমান্ডে আলাদাভাবে জানিয়েছেন, আবরারকে পেটানোর সময় কেউ মুখ চেপে ধরেন, কেউ হাত ধরেন আবার কেউ পা চেপে ধরেন। মুখ চেপে ধরার কারণে আবরার মারধরের সময় চিৎকার করতে পারেননি। আবরার যখন হাত দিয়ে মারধর আটকাতে গেছেন তখন সেই হাতেই স্টাম্প দিয়ে বেশি করে পিটিয়েছি। এ সময় পা নাড়াচাড়া করলে পা দিয়েও মেরেছে। এক পর্যায়ে আবরারের হাত-পা নিস্তেজ হয়ে যায়।

২০১১ নম্বর কক্ষে প্রথমদফায় মারধরের পর আবরারকে নিয়ে যাওয়া হয় ২০০৫ নম্বর কক্ষে। এরপর সেখানে তাকে কোমরে বেদমভাবে পেটানো হয়। তখন আবরার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পা ধরতে চেয়েছিল। জীবন ভিক্ষা চেয়েছিল। বলেছিল, ‘আর মেরো না, আমি মারা যাচ্ছি, তোমরা আমাকে একটু পানি খেতে দাও।’ তারা আবরারকে পানিও খেতে দেয়নি। এ সময় আবরারের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কথা বলতে পারে না। কালেমা পড়তে পড়তে তাদের কথা থেমে যায়। এরপর তাকে কয়েকজন মিলে প্রথম ও দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির মাঝখানে রেখে দেয়। সেখানে রাত ৩টার দিকে হলের চিকিৎসককে ডেকে আনা হলে তিনি জানান, আবরার মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন

ভিডিওর বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কয়েকজন হল প্রভোস্ট মোহাম্মদ জাফর ইকবাল খানকে ডেকে আনেন। তিনি আবরারকে বিছানা চাদর দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় দেখে ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করেন। আবরার মারা গেছে চিকিৎসক জানানোর পর প্রভোস্ট চাদর তুলে হাত ও পায়ে পেটানোর দাগ দেখেন। এরপর তিনি আবরারের মৃতদেহ ডাইনিংয়ে নিয়ে রাখেন। সকাল ৬টার দিতে পুলিশকে জানানো হয়।

চকবাজার থানার পুলিশের একজন এসআই সারাবাংলাকে বলেন, ‘শিবির ধরা হয়েছে। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে মর্মে থানায় ফোন করা হলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য শেরে বাংলা হলে যান। কিন্তু সেখানে গেলে ছাত্রলীগের ছেলেরা ঢুকতে দেয়নি। পরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে বললে, মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিতে দেয়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, আবরার হত্যার ঘটনায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২২ জনকে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও মামলার এজাহারে ১৯ জনের নাম এসেছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে আসামি কমবেশি হতে পারে বলে জানায় গোয়েন্দা পুলিশ।

এরই মধ্যে ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার সবাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবরার হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আরও কারা জড়িত ছিল তা বের করতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

‘আবরার হত্যা নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করলে ব্যবস্থা’
আবরারের বাড়িতে তোপের মুখে বুয়েট ভিসি
মোমবাতি জ্বালিয়ে আবরারকে স্মরণ বুয়েট শিক্ষার্থীদের
আবরারের বাড়িতে তোপের মুখে ভিসি, পুলিশের লাঠিচার্জ
আবরার হত্যা: ৩ আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
আবরার হত্যার দ্রুত বিচার চায় জাতিসংঘ
আবরার হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ছাত্রলীগের
আবরার হত্যায় বুয়েটের তদন্ত কমিটি
বহিষ্কার হতে পারে আবরার হত্যায় জড়িতরা, সাড়া মিলছে না বুয়েট ভিসির
আবরার হত্যার প্রতিবাদে কুবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন
আবরার হত্যার বিচার চায় ঢাবি শিক্ষক সমিতি
আবরার হত্যা মামলা তদন্ত করবে ডিবি

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইউজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন