বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

কোকেনে ভাসছে লন্ডন

অক্টোবর ১০, ২০১৯ | ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

বিচিত্রা ডেস্ক

লন্ডনে কোকেনের বাৎসরিক বাজার এখন এক বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। এক নতুন হিসাব থেকে দেখা গেছে, লন্ডনবাসীরা প্রতিদিন দিন প্রায় ২৩ কেজির কাছাকাছি সবচেয়ে ভালো মানের কোকেন সেবন করে থাকেন। এই ২৩ কেজি কোকেন থেকে অর্ধেক মিলিয়ন কোকেনের ডোজ তৈরি করা যায়। যার বাজার মূল্য ২.৭৫ মিলিয়ন ইউরো। স্কাই নিউজের এক বিশেষ গবেষণায় দেখা গেছে এই পরিমাণ ইউরোপের অন্য শহরগুলোর মোট প্রয়োজনীয় কোকেনের প্রায় দ্বিগুন।

বিজ্ঞাপন

লন্ডন ইউনিভার্সিটির কিংস কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এই শহরের পরিত্যক্ত পানি থেকে বেনজোইয়লেকগোনিন যৌগ সংগ্রহ করার মাধ্যমে (কোকেন সেবন করলে এই যৌগ শরীর তৈরি করে, পরে পানির সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়) নিশ্চিত হয়েছে  লন্ডনে প্রতিদিন ২৩ কেজি কোকেন ব্যবহৃত হয়। যা বার্সেলোনা (১৩ কেজি), আমস্টারডাম (৫ কেজি), বার্লিনের (৫ কেজি) প্রয়োজনীয় কোকেনের পরিমাণের চেয়েও বেশি।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ, লন্ডনে প্রতিবছর আট টন কোকেনের প্রয়োজন হয়। যার বাজার মূল্য ১ বিলিয়ন ইউরো। স্কাই নিউজের এই বিশেষ গবেষণায় আরও দেখা গেছে ইউরোপের অন্যান্য শহরগুলোরত মতো লন্ডনে শুধু উইকএন্ড কোকেনের জনপ্রিয়তা নয় বরং সপ্তাহের প্রতিদিনই তারা কোকেন নিয়ে থাকে। উইকএন্ডের ছুটিতে এই মাত্রা একটু বেড়ে যায়। ফরেনসিক বিভাগের ডঃ লিয়ন ব্যারোন স্কাই নিউজকে বলেছেন, অন্য শহরগুলোতে যেমন বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য কোকেন গ্রহন করা হয়ে থাকে লন্ডনে তা নয়। এখানে নাগরিকদের প্রতিদিনই কোকেনের দরকার হয়।

লন্ডন এবং ব্রিস্টলের ওপর চালানো গবেষণায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন ব্রিস্টল থেকে। ব্রিস্টলে জনসংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ কোকেনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ব্রিস্টলে স্কাই নিউজ অনেক চুলের ডিজাইনার, বারের স্টাফ, শিক্ষক, স্বাস্থ্যসেবা প্রদাণকারী এবং ছাত্রের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে তারা কোকেনে আসক্ত। ব্রিস্টলের একজন বার ব্যবসায়ি নাম না প্রকাশ করে বলেছেন, কোকেনসেবীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমার নিরাপত্তা খাতে প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ইউরো খরচ বেড়েছে। কোথায় কোকেন নেই? প্রচুর মানসিক চাপের জন্য মানুষ বেশি করে মাদকের দিকে ঝুঁকছে। পাইকারী বাজারে কোকেনের দাম কমে যাওয়া সম্ভবত কোকেনসেবী বেড়ে যাওয়ার আরেকটা কারণ। অনেক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র কোকেনের বাজারে ঢুকে পড়ছে এবং তারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কলম্বিয়া থেকে বৈধ পণ্যের ভেতরে করে জাহাজে কোকেন আনা হচ্ছে লন্ডনে। আনারস এবং কলার চালানের মধ্যে কোকেন বেশি আসছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

স্কাই নিউজের গবেষনা থেকে জানা গেছে, ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে কোকেনের বাজার সম্প্রসারন করা হচ্ছে। অনলাইনে কোকেন বিক্রি করে এমন একজন ডিলার জানিয়েছেন ই বে স্টাইলে ট্রেডার রেটিং তিনি পছন্দ করেন। এর মাধ্যমে আমরা ককেন ঠিকই পাচ্ছি কিন্তু কোনো ধরণের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রয়জন হচ্ছে না। আমরা শুধু কোকেন ডেলিভারিই নয় বরং ডেলিভারির পরে ফিডব্যাক দিতে ও নিতে পারছি ।

২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে লন্ডনে কোকেনসেবীর সংখ্যা দ্বিগুন হয়ে গেছে। এ সময়েই কোকেনের বাজার ছড়িয়ে পড়েছে বলে গবেষণা জানাচ্ছে।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন