রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ভিসিকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম বুয়েট শিক্ষার্থীদের

অক্টোবর ১০, ২০১৯ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের কাছে আবরার হত্যাকাণ্ড ও চলমান দাবির বিষয়ে জবাবদিহিতা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ২টার মধ্যে ভিসিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে এসে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। নতুবা প্রতিষ্ঠানটির সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা একথা জানায়।

এর আগে, বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের শহিদ মিনারে জড়ো হতে থাকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আবরার হত্যার বিচার চেয়ে ১০ দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন ছাত্র-ছাত্রীর। আন্দোলনকারীদের  মতে, আগামী ১৪ই অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। সুতরাং প্রশাসনের উচিত হবে যথাসময়ে তাদের দাবির বিষয়ে সহমত জানানো। অন্যথায় তারা ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দিবে না।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে  বলেন, আমরা আন্দোলন করছি। কিন্তু বুয়েট কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কোনো কিছু জানায়নি।

তারা ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ ‘খুনিদের ঠিকানা এই বুয়েটে হবে না’ ‘আমার ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে’ ‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই’ নানান স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় আবরারের বাড়িতে ঘটে যাওয়া ঘটনারও নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিল, গ্রাফিতির আয়োজন।

আরও পড়ুন:- আবরার হত্যা: অমিত সাহা আটক

শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি হলো:

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শনাক্তকারী খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্তকৃত সকলকে আগামী ১১ অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫টার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এ মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ তারিখ ৫ টার মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করার জন্য বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটে হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। জুনিয়র মোস্ট ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় যেকোনো হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোরপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এহেন কর্মকাণ্ডে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ক্ষুব্ধ, তাই আগামী ৭ দিনের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে বুয়েটে সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি এবং পরবর্তীতে ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন, তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ (০৯/১০/১৯) দুপুর ২ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিং নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে । এ ধরণের সন্ত্রাসে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে। একই সাথে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৯. পূর্বে ঘটা এ ধরণের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ঘটা যেকোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল‌্যাটফর্ম (কোনো সাইট বা ফর্ম) থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইআইএস একাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫ টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে এবং পরবর্তী ১ মাসের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবগুলো হলের প্রত্যেক ফ্লোরের সবগুলা উইংয়ের দুইপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

কেন এই আন্দোলন?

সোমবার (৭ অক্টোবর) ভোর চারটার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের উত্তর ব্লকের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আবরার বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (৭ অক্টোবর) রাতে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। আবরার হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:-

চিরনিদ্রায় শায়িত আবরার, জানাজায় হাজার মানুষের ঢল

আববার হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামি পাঁচ দিনের রিমান্ডে

‘বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি থাকার প্রয়োজন নেই’

‘ছেলেকে তো ফিরে পাব না, হত্যার বিচার যেন পাই’

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যায় ছাত্রলীগের ৯ নেতা আটক

শরীরে বাঁশ-স্টাম্পের আঘাত, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মৃত্যু

আবরার হত্যা: বুয়েট ছাত্রলীগের ১১ নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার

বুয়েটের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীর মৃতদেহ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

হত্যার ফুটেজ চান শিক্ষার্থীরা, বুয়েটে  ২ পুলিশ কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

আবরার হত্যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জড়িত, স্বীকার বুয়েট সভাপতির

আবরারের জন্য সহপাঠীদের কান্না, দুপুর অবদি বুয়েটে আসেননি উপাচার্য

সারাবাংলা/কেকে/ এনএইচ

বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন