বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী ৯০ দিনেই সম্মেলন: আবু সুফিয়ান

অক্টোবর ১০, ২০১৯ | ২:৪০ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো : কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যেই সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। তবে এর আগে তৃণমূলের সকল কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন আবু সুফিয়ান। গত ২ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে ৬৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন আহ্বায়কসহ সদস্যরা।

আবু সুফিয়ান জানান, শুক্রবার বিকেল তিনটায় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা হবে। শনিবার ঢাকায় দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জেয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে।

সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের শুরুতে দক্ষিণ জেলার সকল উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিদ্যমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে সেখানে কমিটি করা হবে। এরপর আমরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করব।’

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলন কখন হবে, জানতে চাইলে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত কোনো এজেন্ডা নেই। কাউকে প্রতিষ্ঠিত করা বা কাউকে বাদ দেওয়ার এজেন্ডা আমাদের নেই। আমাদের কাছে দল সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সবাই আমাদের সহযোগিতা করছেন। আমরা ৯০ দিনের মধ্যেই দক্ষিণ জেলার সম্মেলন করতে পারব। সম্মেলনের সময় পর্যন্ত আমাদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি চলমান থাকবে। সাংগঠনিক কর্মসূচিও চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, জনগণের হারানো ভোটের অধিকার ফেরত আনা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আন্দোলন করে যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিকভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না বর্তমান সরকার। রাস্তায় মিছিল দূরে থাক, সামান্য সভা-সমাবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়মের কথা বলে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে কি চুক্তি করে এলেন, সেটা জানার অধিকার জনগণের আছে। আমরা কী দিলাম, কী পেলাম- সেটা জানার অধিকার তো আমাদের আছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন নির্বাচিত কোনো সরকার না থাকায় বারবার জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে।’

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে নৃশংস কায়দায় পিটিয়ে আবরারকে খুন করা হয়েছে। এটার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এর প্রতিবাদে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করছে। কিন্তু সরকারী দল ও ছাত্রলীগ সেখানেও তাদের বাধা দিচ্ছে। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিদায়ী কমিটির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান, সিনিয়র সদস্য এস এম মামুন মিয়াসহ আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

২০০৯ সালে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি হয়েছিল। ২০১১ সালে কমিটি পুনর্গঠন করে গাজী শাহজাহান জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

১০ বছর পর কেন্দ্র থেকে ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে ৬৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিরও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আছেন। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন