বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

আবরারকে মারা হচ্ছে জানলে প্রশাসনের অনুমতির অপেক্ষা করতো না পুলিশ

অক্টোবর ১০, ২০১৯ | ৫:৪৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পেটানো হচ্ছে ‍পুলিশ জানতে পারলে হয়তো মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হয়তো নাও ঘটতে পারত। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার যে রেওয়াজ তা মানা হতো না, বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত আবরার হত্যা মামলার বিষয়ে বলতে গিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ একজন ফোন করে বলেছিল হলের ভেতরে গোলমাল হচ্ছে। ওই তথ্যে স্থানীয় থানা পুলিশের একটি টহল টিম সেখানে যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গেলে পুলিশের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। ওই রাতে পুলিশ অনুমতি পায়নি যে কারণে ৪০ মিনিট পুলিশ থাকার পর চলে যায়। বাইরে থেকে ভেতরে এ ধরণের কোনো ঘটনার লক্ষণও দেখতে পায়নি পুলিশ সদস্যরা। এই ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি আমরা পাইনি।’

ঘটনা জানাজানির পর পুলিশ কি ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেনি, জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ যদি আগেই বুঝতো যে রাতে বুয়েটের হলে এমন একটি ঘটনা ঘটবে বা ঘটতে চলেছে তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। অতীতে ঘটনা ঘটার সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবি অতীতে অনেক ক্লু বিহীন জটিল মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে চার্জশিট দিয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও এর ব্যতয় ঘটবে না। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের প্রকৃত হত্যাকারী হিসেবে নিশ্চিত করা হবে।’

আবরার হত্যার রাতে বুয়েটের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণক করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আবরার ফাহাদের লাশের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সহকারী প্রাধ্যক্ষ, গার্ড ও বুয়েটের চিকিৎসক। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে সিসিটিভি ফুজেটে যাদের দেখা গেছে, তদন্তের স্বার্থে ও প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আগ্রহী হলে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও সাক্ষী করা হবে- যোগ করেন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

শিবির সন্দেহে মারধর করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শিবির সন্দেহে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওইটাই একমাত্র কারণ কিনা তদন্তের এই পর্যায়ে বলা যাচ্ছে না। কারণ এর বাইরে আরও কারণ থাকতে পারে, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে ‘

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি)আব্দুল বাতেন, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়, যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম, ডিবি ডিসি (উত্তর) মশিউর রহমান, ডিবি ডিসি (দক্ষিণ) জামিল আহমেদ ও ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/ইউজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন