বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

কথা দিচ্ছি, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: মনিরুল

অক্টোবর ১০, ২০১৯ | ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না— এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা রাখুন। কথা দিচ্ছি, আবরার হত্যার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতরা কে, কী নাম, পেশা কী, কোন দলের— এর কিছুই দেখা হচ্ছে না। আইনেও সেই সুযোগ নেই। কারও সামাজিক অবস্থানও তদন্তে আমলে নেওয়া হচ্ছে না। তদন্তকারী সংস্থা ডিবি পুলিশ (পুলিশের গোয়েন্দা শাখা) সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে আবরার হত্যা ঘটনা তদন্ত করছে। এক্ষেত্রে কারও পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

সিটিটিসি প্রধান বলেন, কোনো সূত্র নেই, এমন অনেক ঘটনাও ডিবি পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করে কথিত প্রভাবশালী খুনিদের গ্রেফতার করেছে। আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনাতেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের কার কতটুকু দায়, সেটা আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে শেষ করব।

সাংবাদিকদের কাছেও এ ঘটনা নিয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা প্রকাশ্যে বা গোপনে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যেকোনো তথ্য আমাদের জানালে আমরা তা অ্যাপিশিয়েট করব। আমলে নিয়ে তা তদন্ত করে দেখব।

আবরার হত্যায় অমিত সাহার জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে হয়তো অমিত শাহ উপস্থিত ছিলেন না। তবে আবরার হত্যায় তার পরোক্ষ দায় রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বলতে পারি, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতেই হবে, বিষয়টি এমন নয়। অনেক ঘটনাতে দেখা গেছে ঘটনাস্থলে না থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে কেউ কেউ। অমিত সাহা এ ক্ষেত্রে তেমনই কিছু ঘটিয়েছে।

আবরারকে হত্যার জন্যই সেই রাতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না— জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মোটিভটা আমরা পরিষ্কার করে বলছি না। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে যতটুকু বুঝতে পেরেছি, এটা স্পষ্ট যে অনেকগুলো ঘটনার সমষ্টিতে আবরার হত্যা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে মোটিভ ক্লিয়ার করে বলা যাবে। এ ঘটনার সাথে জড়িত এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ওই রাতে আসলে আবরার হত্যায় কত জন জড়িত ছিল বা টর্চার সেলে কারা ছিল— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তদন্তে ক্লিয়ার পিকচার নেওয়ার চেষ্টা করছি। কারা ছিল, আর কারা ছিল না— তা যাচাই করা হচ্ছে, যেহেতু মারার কোনো সুনির্দিষ্ট ছবি কিংবা ভিডিও নাই। তবে এমনও তো হতে পারে যে আশপাশের রুমের অনেকে ঘটনা শুনে আসছে। আবার কেউ কেউ এমনও থাকতে পারে যে ছবিতে নেই কিন্তু ঘটনাস্থলে ছিল বা পেটানোর সঙ্গে জড়িত। এর সবই তদন্ত করা হচ্ছে। ক্লিয়ার পিকচার পেতে কিছুটা সময় লাগছে।

তিনি বলেন, ‘এজহার একটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী। এর বাইরের কিছু নামও উঠে আসছে। সেই সূত্র ধরে এজাহারে নাম নেই কিন্তু তদন্তে ও গ্রেফতার হওয়া অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য পেয়ে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের নাম এজহারে ছিল না। প্রথম গ্রেফতার ১০ জনের সঙ্গে পরে গ্রেফতার তিন জনও রিমান্ডে রয়েছেন। ডিবির কয়েকটি টিম অব্যাহতভাবে কাজ করছে। আজও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আবরার হত্যার ঘটনায় এজাহারে নাম ছিল না অথচ গ্রেফতার করা হয়েছে— এমন তিন জন হলেন অমিত সাহা, মিজানুর রহমান মিজান ও শামসুল আরেফীন রাফাত। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের আবরার হত্যায় জড়িত থাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান মনিরুল।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন