বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ জিতেছে কাতার, মন জিতেছে বাংলাদেশ

অক্টোবর ১১, ২০১৯ | ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রেজাল্ট বলছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের রেজাল্ট যে সবসময় ম্যাচের পুরো পরিস্থিতি বোঝাতে পারে না সেটা আজকের ম্যাচই প্রমাণ। বৃষ্টি আর যানজট ঝামেলা মাথায় নিয়ে গ্যালারি ভরা দর্শকদের সামনে আজ বাংলাদেশ দল অন্য এক খেলা উপহার দিয়েছে। ম্যাচ হারলেও কিছুটা তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে ফুটবল সমর্থকরা। একটু ‘ইশ তো থাকেই’।

বিজ্ঞাপন

তবে ম্যাচজুড়ে পজেশন কাতারের বেশি থাকবে সেটা অনুমেয় ছিল। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা র‌্যাঙ্কিং আর যোগ্যতায় এমনিতেই বেশ এগিয়ে। পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের অস্ত্র ছিল ঘরের মাঠের সুবিধা আর মনোবল।

ম্যাচজুড়ে গ্যালারিতে গম গম আওয়াজে যেন তেতে উঠেছিল জামাল ভূঁইয়ারা। কাতারকে যেন কাঁপিয়ে দিয়েছে লাল-সবুজরা। ম্যাচের একটা ছোট্ট পরিসংখ্যানেই সেটা যথেষ্ট। পরিসংখ্যান বলছে গোলবারে অন টার্গেটে কাতারের শট যেখানে ছিল মাত্র দুটি সেখানে বাংলাদেশের শট ছিল ৫টি।

ভুল পড়ছেন না। পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি অন টার্গেটে শট কাতারের। দুটিই গোল। অন্যদিকে সুযোগের পর সুযোগ সৃষ্টি করে গেছে বাংলাদেশ। গ্যালারিতে মুহূর্মুহূ উত্তেজনা সেটারই বহিঃপ্রকাশ। প্রথম আক্রমণ, প্রথম কর্নারটাও আদায় করে নিয়েছিল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ। ৮ মিনিটে রায়হান হাসানের লম্বা পাস ধরে সাদউদ্দিনের ক্রসে পা ছোঁয়ানোর কেউ ছিল না। পরের মিনিটে কর্নারে ইয়াসিনের হেডের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে জামাল ভূইয়ার শট দুরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

২৬তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে সুযোগ তৈরি হয়েছিল কিন্তু বিপলু আহমেদ বলের নাগাল পাওয়ার আগে এক ডিফেন্ডার বিপদমুক্ত করেন। দুই মিনিট পর পিছিয়ে পড়ে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে কাতারের চেয়ে ১২৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ। সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ওত পেতে থাকা ইউসুফ আব্দুরিসাগ প্লেসিং শটে জাল খুঁজে নেন।

প্রথমার্ধের শেষটা রাঙাতে পারতো বাংলাদেশ। রায়হানের থ্রো ইনের পর ডি-বক্সের জটলার ভেতর থেকে ইয়াসিন ও রিয়াদুল হাসান রাফির শট ডিফেন্ডাররা ফেরান গোললাইন থেকে। যেন মনে হচ্ছিল গোলটা হয়েই যাবে। একেবারে বারের সামনে থেকে শুয়ে বলটা ক্লিয়ার করে দেন কাতার ডিফেন্ডার। দুর্ভাগ্যতো শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা কাতারের দখলে থাকলেও ১০ মিনিট পর আবারও গ্যালারিতে গর্জনের শুরু। ম্যাচে ফিরেছে জামালরা। ৭০তম মিনিটে জীবনকে তুলে নিয়ে মাহবুবুর রহমান সুফিলকে নামান বাংলাদেশ কোচ। পরের মিনিটেই রায়হায়ের থ্রো ইনে ইয়াসিন খানের হেড লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান গোলরক্ষক। এরপর সোহেল রানার ক্রসে ভুটানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা ইয়াসিনের দুর্বল হেড জমে যায় গোলরক্ষকের গ্লাভসে।

৭৪তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা সুফিলের ক্রসে জামালের শট এক ডিফেন্ডার হেডে বিপদমুক্ত করেন। এরপর সুফিলের শট ফিস্ট করে ফেরান গোলরক্ষক। চার মিনিট পর ইব্রাহিমের ছোট পাসে বিপলুর শট পোস্টের বাইরে যায়। সমর্থকদের হতাশা আরও বাড়ে।

সমতায় ফেরার অনেক সুযোগই পায় বাংলাদেশ। মাঝে সাদের বাড়িয়ে দেয়া বলটা ডিবক্সের ভেতরে যেন সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেয়। আনন্দের উল্লাসে কাঁপবে মাঠ এমন পর্যায়ে বিপলু আর জামাল ভূইয়া দ্বিধাদ্বন্দ্বতে বলটা ভালোভাবেই কিকই নিতে পারলেন না। পরে ম্যাচ শেষে সেই মিসের জন্য দুজনের বোঝাপড়ার অভাবকেই দুষলেন। সেটা হয় ম্যাচে।

ম্যাচের প্রায় শেষ দিকে কাতারের অফসাইড ফাঁদ থেকে বেরিয়ে জামাল ভূঁইয়ার আসার চিপ শটটা হেড করেই দিয়েছিলেন ইয়াসিন খান। সেটাও একেবারে বারের কোণা বরাবর যাচ্ছিল। বিপদমুক্ত করেন কাতারের গোলরক্ষক সাদ আল সাহেব। তবে বলটা বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলকরার সুযোগও করে নিতে পারতেন তিনি। মিস তো মিসই। ১-০ ব্যবধানেই মাঠ ছাড়তে পারতো বাংলাদেশ। যোগ করা সময়ে ডি-বক্সের জটলার ভেতর থেকে করিম বৌদিফের লক্ষ্যভেদে হার নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।

রেজাল্ট নিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা জিতলেও মন জয় করেছে জামাল-সুফিলরা। কাতারের কোচও যেন স্বীকার করলেন, ‘কষ্ট হলেও পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছি।’ কোচ জেমির কথাতো স্পষ্ট, ‘আমরা পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া ডিজার্ভ করতাম।

বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আসা দর্শকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার বলেন, ‘আমরা দুখিত। দর্শকদের ধন্যবাদ যারা এতো কষ্ট করে দেশের খেলা দেখতে এসেছেন। এভাবেই আমাদের পাশে থাকবেন। আমরা গর্বিত।’

আরও পড়ুন: ‘সেরা খেলাটাই খেলেছে বাংলাদেশ’

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন