বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণপূর্তের ১৪ নির্দেশনা

অক্টোবর ১১, ২০১৯ | ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ১৪টি নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

নির্দেশনায় নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতাসম্পন্ন তৃতীয় পক্ষ দ্বারা বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অর্থাৎ পরিবেশগত, সামাজিক ও কারিগরী প্রভাব এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করা; বিশেষ কারণ ছাড়া চলমান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো, এমনকি প্রকল্প সংশোধন না করার বাধ্যবাধ্যকতা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রধান মো. নজরুল ইসলামের সই করা এই পরিপত্রে বলা হয়, নতুন প্রকল্প প্রণয়নের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সমীক্ষা, পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেন মাঝ পথে প্রকল্প সংশোধনের প্রয়োজন না হয়। স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে কারিগরি পরীক্ষা, যেমন— মাটি পরীক্ষা, সাইট নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ডিপিপিতে সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।

পরিপত্রের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশেষ কারণ ছাড়া চলমান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো, আন্তঃঅঙ্গ সমন্বয় এবং প্রকল্প সংশোধন করা যাবে না; জরুরি প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রকল্পের ড্রয়িং ও ডিজাইন চূড়ান্ত করে মোট ব্যয় প্রাক্কলন না করে কোনোভাবেই পর প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে পরিপত্রে।

বিজ্ঞাপন

এতে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আইটেমের পরিমাণ ও আইটেম অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঠিকতা ও যথার্থতা সংস্থা প্রধান ও সংস্থা প্রধান মনোনীত ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে যৌথভাবে প্রত্যয়িত হতে হবে; প্রাক্কলনের সঙ্গে রেইট শিডিউল/বাজার মূল্যের অসামাঞ্জস্যতা থাকলে সংস্থা প্রধানের মনোনীত কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া ভেরিয়েশন, পুনঃকার্যাদেশ, অতিরিক্ত কার্যাদেশসহ এ ধরনের সব কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি ক্ষেত্র বিশেষে যৌক্তিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভেরিয়েশন, পুনঃকার্যাদেশ, অতিরিক্ত কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে পিপিআর ৭৭, ৭৮, ৭৯ ধারা যথাযথভাবে প্রতিপালন ও এ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে প্রত্যয়ন সংযুক্তিকে বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসারে গঠিত অধিদফতর/সংস্থার পণ্য সংশ্লিষ্ট সেবা, কার্য ক্রয় সংক্রান্ত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি নিয়মিতভাবে পুর্নগঠন করতে হবে; প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজ/ক্রয়ের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে; প্রতিটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকরা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করবেন এবং সংস্থা প্রধানদের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া, সংস্থা প্রধানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ছাড়াও বিনা নোটিশে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে চিহ্নিত সুনির্দিষ্ট অনিয়মের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠাতে বলা হয়েছে। ক্রয়কারী কর্তৃক যোগ্যতাসম্পন্ন সরবরাহকারী বা ঠিকাদারের তালিকা সংরক্ষণ ও প্রকল্প সাইটে সাইট অর্ডার বুকসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের সকল ডক্যুমেন্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

প্রকল্প সাইটের দৃশ্যমান স্থানে প্রকল্পের সব তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি প্রকল্পের অধীন স্থাপনা বা অবকাঠামোর উপকরণের গুণগত মান উপযুক্ত ল্যাবরেটরিতে নিয়মিত পরীক্ষা করতেও বলা হয়েছে পরিপত্রে।

সারাবাংলা/জেআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন