রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

যুবলীগ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দা‌বি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

অক্টোবর ১১, ২০১৯ | ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা করার মদদ দেয়ার অভিযোগে যুবলীগ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

এ সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন সংগঠনটির নেতা কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন থেকে দাবি করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাবি শাখা সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাতেই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাবি শাখা সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সংগঠনটি।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদেরকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাবি শাখা সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যাসিনো বিরোধী শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানাই। যারা মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্র দখল করে এ অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে তাদের শাস্তি চাই। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে এই কর্মসুচি পালন করা হয়েছে এমন দাবি করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রিড়া চক্রে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা করার মদদ দেওয়ার অপরাধে যুবলীগ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করতে হবে। এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রিড়া চক্রে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনার সঙ্গে যারা জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। এই ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা করে সমগ্র মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণার্থে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র দখল করে অবৈধভাবে জুয়া এবং ব্যবসা পরিচালনা করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

গত মাসে আওয়ামী লীগের এক সভায় চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর গণমাধ্যমে যুবলীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতায় ঢাকার ৬০টি জায়গায় ক্যাসিনো পরিচালনার খবর প্রকাশ হয়। ১৮ নভেম্বর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস, ওয়ান্ডারার্স এবং গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ মদ ও ৪০ লাখের বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করে র্যা ব। ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে ওই দিনই যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

পাশের ওয়ান্ডারার্স থেকেও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার হয়, এই ক্লাব পরিচালনার নেতৃত্বে থাকা মোল্লা  মো. আবু কাওসার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। এরপর ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে অভিযান চালিয়েও ক্যাসিনো চালানোর প্রমাণ পায় র‌্যাব, অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় ক্লাবের সভাপতি কৃষকলীগের সহ-সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে।

এরমধ্যে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি করা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানকে ‘শুদ্ধি অভিযান’ নাম দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, সন্ত্রাস, চাঁদবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকেও অপরাধী মুক্ত করা হবে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/ এজেডকে/

বিজ্ঞাপন

Tags: , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন