বিজ্ঞাপন

ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণরা পেলেন যুবলীগের পদ

অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

পাবনা: বিশ্বকাপ ফুটবল, অলিম্পিকের মতো বড় আসরে একটি আলোচিত শব্দ হয়ে ওঠে ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা)। বড় বড় অ্যাথলেটরা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই অংশ নিয়ে থাকেন ক্রীড়াঙ্গণের সব ইভেন্টে। তবে বাংলাদেশে এবার ডোপ টেস্টের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত করা হলো পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা যুবলীগের নতুন নেতৃত্বকে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১২ অক্টোবর) পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাঁথিয়া পাইলট উচ্চবিদালয় মাঠে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে মাদক পরীক্ষায় (ডোপ টেস্ট) অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। স্থানীয় যুবলীগের কাউন্সিলে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করার বিষয়টি তিনিই চালু করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে।

বিজ্ঞাপন

সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সারাবাংলাকে বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মাদক একটি বড় সমস্যা যার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আর এই মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন নিজেদের স্থান থেকে কাজ করে যাবেন ঠিক একই ভাবে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। আর তাই যখন দেশে মাদক, ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং একই সঙ্গে চলছে মহাসমারোহে যুবলীগের কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি। পাবনার জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে যখনই সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয় তখন আমি তাদের মাদকমুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচন করার কথা বলি। এ বিষয়ে সবাই ঐক্যমত পোষণ করেন ও ১০ অক্টোবর বিশেষ সাক্ষাৎকারের নামে সকল পদপ্রত্যাশীদের ডাক্তারদের মাধ্যমে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়।

তিনি আরও বলেন, যারা আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবেন তারা যেন সুস্থ দেহের অধিকারী হন, মাদকাসক্ত না হন- তা আমরা চাই। তাই এ ডোপ টেস্টের আয়োজন করা হয়েছে যাতে কোনো মাদকসেবী আগামী দিনের নেতৃত্বে আসতে না পারে। এই বিষয়ে সকলের সঙ্গেই আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃড় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। সমাজের প্রতিটি স্তরে এমনকি সরকারি পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই এবং আইন হিসেবে এটিকে কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্থানীয় ছাত্রলীগের কাউন্সিলের সময়েও আমি একই কাজ করেছিলাম। সেবারের মতো এবারও হাসপাতালে বিশেষ সাক্ষাৎকার ব্যবস্থার আওতায় পদপ্রত্যাশীদের ডোপ টেস্ট করিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করার ব্যবস্থা করেছি যা স্বাগত জানিয়েছেন সবাই।

এ সময় তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে মাদকমুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচিত করার আহবান জানান।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি আদর্শ অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। আমাদের নেতৃত্বের মশাল তোমাদের হাতে দিয়ে যেতে চাই। সারাদেশের মধ্যে সাঁথিয়া যুবলীগে সম্মেলন হচ্ছে ব্যতিক্রম। সম্মেলনের আগেই সকল প্রার্থীদেরকে ডোপ টেস্ট করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদক মুক্ত সংগঠন উপহার দিতেই ডোপ টেষ্ট করা হয়েছে। সাঁথিয়ায় শতভাগ বিদ্যুত নিশ্চিত হয়েছে। লেখাপড়া ক্ষেত্রেও সাঁথিয়ার শিক্ষার্থী এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে।'

দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সফলভাবে ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ হয়ে সভাপতি পদে আশরাফুজ্জামান টুটুল সভাপতি ও মিজানুর রহমান সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সম্মেলনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক ও দুইটি সদস্যপদে নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয়।

এর আগে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা অবমুক্ত করে সম্মেলনে উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা যুবলীগের আহবায়ক আলী মতুর্জা সনি বিশ্বাস। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভিপি।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহম্মেদ নাসীম, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলী মর্তুজা বিশ্বাস, যুগ্ম আহ্বায়ক শিবলী সাদিক, সাঁথিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলমসহ অনেকে।

সারাবাংলা/এসবি/এমআই

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন