সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘বিভাজন ভুলে দেশের জন্য এক হয়ে কাজ করার শপথ নিন’

অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | ১১:১৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি ভুলে বাংলাদেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধির জন্য এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় উপদফতর সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকাননে ‘চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে’ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ফানুস উৎসবের উদ্বোধনের সময় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন- আবরার হত্যার বিচার দাবিতে আকাশে ফানুস

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘পূর্ণিমার আলোয় উদ্ভাসিত বাংলার জনপদ। আজ প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রবারণা মানে হচ্ছে পৃথিবীতে যা কিছু ভালো, তাকে বরণ করা এবং যা কিছু মন্দ তাকে বর্জন করা। প্রবারণা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উৎসব। কিন্তু এই দেশে, বিশেষ করে চট্টগ্রামে এটি আর শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উৎসব নেই। এটি এখন জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

‘আমি দেখতে পাচ্ছি, এই নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশাপাশি অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনও এসেছেন। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য,’— বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ধারণ করে। মাত্র কয়েকদিন আগে দুর্গা পূজা হয়েছে। আজ প্রবারণা পূর্ণিমা। কিছুদিন আগে ঈদ হয়েছে। আমরা প্রতিটি উৎসব সব ধর্মের মানুষ আনন্দের সঙ্গে মিলেমিশে পালন করি।’

‘আমরা (আওয়ামী লীগ) বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। বিভাজনের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের শপথ নিতে হবে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

চট্টগ্রামের সন্তান বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘চট্টগ্রামের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য আছে। আমরা সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি না। মৈত্রী আর সম্প্রীতির বন্ধন নিয়ে আজ থেকে আবারও হোক আমাদের নতুন যাত্রা।’

এসময় নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারের সভাপতি অজিত রঞ্জন বড়ুয়া, আওয়ামী লীগ নেত্রী ববিতা বড়ুয়া, সাবেক ছাত্রনেতা মিথুন বড়ুয়া ও টিংকু বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন।

এদিকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে রোববার সকাল থেকেই এ সম্প্রদায়ের সব শ্রেণীর লোকজনের আগমনে মুখর হয়ে উঠে নগরীর বৌদ্ধ মন্দিরগুলো। এদিন সকাল থেকেই নানা উৎসবে মেতে উঠেন তারা। কৃপালাভের আশায় ভক্তিভরে গৌতম বুদ্ধের চরণে মঙ্গলপ্রদীপও প্রজ্বালন করেন হাজারও নারীপুরুষ। এছাড়া দিনভর পঞ্চশীল, অষ্টশীল, পূজা, ধর্মীয় আলোচনা, পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়, আহার-বিনোদনের পর সন্ধ্যায় আনন্দমুখর পরিবেশে ফানুস উড়িয়েছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন। ফানুস উৎসব উপভোগ করতে নগরীর বৌদ্ধবিহারগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ভিড় জমে যায়।

চট্টগ্রাম নগরীর কাতালগঞ্জ নবপণ্ডিত বৌদ্ধবিহারে ফানুস উৎসবে যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

প্রবারণা পূর্ণিমা চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন