বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

২ বছরে অগ্রগতি শূন্য, প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ৩৪ শতাংশ!

অক্টোবর ১৪, ২০১৯ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ২০১৬ সালের আগস্টে শুরু হয়েছে প্রকল্পের কাজ। সেই হিসাবে এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে দুই বছরেরও বেশি সময়। তবে এই সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি মাত্র শুন্য দশমিক ০৯ শতাংশ, বাস্তব অগ্রগতি শুন্য দশমিক ২০ শতাংশ! এ পরিস্থিতিতে মূল ব্যয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশ বাড়িয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। শুধু তাই নয়, এর আগেই প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়ানো হলেও এবারের সংশোধনীতে তা আরও একবছর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘ঢাকার আজিমপুরে বিচারকদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের জন্য এই সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৯৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে নতুন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১২৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। একইসঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও ২০২০ সালের জুন থেকে বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন রাখা হয়েছে এই প্রস্তাবে।

প্রকল্পটি সংশোধন করে ব্যয় বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাড়তি একটি ডুপ্লেক্স ভবন সংযোজন, নকশা পরিবর্তনের কারণে ভবনের প্রতিটি তলার আয়তন বৃদ্ধি, বাড়তি লিফট সংযোজন ও বাড়তি সক্ষমতার জেনারেটর স্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটির বিভিন্ন সংশোধনী নিয়ে গত ৪ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পুনর্গঠন করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সংশোধনী প্রক্রিয়াকরণ শেষে অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরবর্তী সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বাসস্থান নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। সরকারি বাসা না পেয়ে অনেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ভাড়া বাড়িতে বাস করেন। এতে সরকারের অনেক অর্থ ব্যয় হয় এবং তাদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ঢাকার আজিমপুর কলোনির ৪৩ ও ৪৪ নম্বর ভবন ভেঙে সেখানে একটি ২০তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য এই প্রকল্পটি ৯৬ কোটি ২১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদন পায়। পরে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ এক বছর ৬ মাস বাড়ানো হয়।

পরবর্তী সময়ে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে আজিমপুরে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিতব্য বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক চত্বরে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের জন্য একটি ডুপ্লেক্স আবাসিক ভবন নির্মাণ, নবীনতম কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জন্য সমান আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ না করে নবীন কর্মকর্তাদের জন্য ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট আয়তনের ৫৭টি ফ্ল্যাট ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জন্য ১ হাজার ৮৭৫ বর্গফুটের ৩৮টি ফ্ল্যাটসহ মোট ৯৫টি ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়। সে জন্য স্থাপত্য অধিদফতর থেকে প্রকল্পের নকশা সংশোধন করে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে আরও বলা হয়েছে, নকশা পরিবর্তনের কারণে প্রতি তলার টিপিক্যাল ফ্লোর এরিয়া আগের ৯ হাজার ৬৬ বর্গফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০ হাজার ৩০০ বর্গফুট হয়েছে। নকশা অনুযায়ী আগের দুইটির পরিবর্তে তিনটি লিফটের সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে ১০০ কেভিএ জেনারেটরের পরিবর্তে ২০০ কেভিএ জেনারেটর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ৩৫০০ বর্গফুটের ডুপ্লেক্স ভবনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াও প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প মেয়াদও একবছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও পরে দেড় বছর সময় বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় প্রকল্পটির। সে সময়ের মধ্যেও প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে আবারও একবছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়েছে প্রকল্পটির।

এটি বাস্তবায়িত হলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক সুবিধা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটি সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস সারাবাংলাকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় ঢাকার আজিমপুরে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ ৯০টি ফ্ল্যাট এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিববের জন্য একটি ডুপ্লেক্স আবাসিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা বাড়বে। তাই এ প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— দুইটি বেজমেন্টসহ ২০ তলা পাঁচ ইউনিটের ভবন নির্মাণ, ৩৫০০ বর্গফুট একটি ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ৯৪৮ বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, ৩২৭ দশমিক ৫৬ মিটার সীমানা প্রাচীর স্থাপন, ২৩০ মিটার কম্পাউন্ড ড্রেন, ৫২ হাজার গ্যালন বহিঃস্থ পানি সরবরাহ ও বহিঃস্থ বিদ্যুতায়ন, গ্যাস সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন