বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পাইকারিতে পেঁয়াজের কেজি ফের ১০০ টাকা!

অক্টোবর ১৫, ২০১৯ | ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: খুচরা বাজারের পর এবার রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় আবারো রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন কাঁচা বাজারে এবং পাড়া মহল্লার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা পেঁয়াজের দাম বাড়ার জন্য পাইকারি বিক্রেতাদের দায়ী করছেন। আর পাইকারী বিক্রেতারা বলেছেন, আমদানী খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় এর পাইকারি দাম বেড়ে গেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল কাঁচা বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন বলেন, আমরা সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর শ্যামবাজার থেকে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ কিনেছি ৯০ টাকা দরে, আর ভারতীয় পেঁয়াজ কিনেছি ৮০ টাকা করে। মঙ্গলবার একই পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে যথাক্রমে ৯৫ ও ৮৫ টাকা কেজি দরে। এর সাথে পরিবহন ও লেবার খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম পড়বে ১০০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকা।

তিনি বলেন, ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে এখন আমাদের দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, শ্যামবাজারে পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা মেসার্স নিউ আল মদিনা ট্রেডার্সের কর্ণধার মো: আনোয়ার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, আমরা প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৯৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮২ টাকা।

পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজ আসছে না। আর মিয়ানমার থেকে যে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে তার ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট পড়ছে। এই পেঁয়াজ মানুষ কিনতে চাচ্ছে না। ফলে দেশে পেঁয়াজের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি করতে না পারলে আগামী ২/৩ মাস পেঁয়াজের দাম আরো বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা খান অ্যান্ড সন্স এর স্বত্ত্বাধিকারী মো: লোকমান হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, আজ (মঙ্গলবার) প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৯৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৭৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আশা করছি আগামী কিছু দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার খবরে রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম একদিনেই প্রতি কেজি ২০ টাকা বেড়ে যায়। ওইদিন সকালে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও বিকেলে তা বেড়ে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। কোথাও কোথাও পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

পরবর্তীতে পেঁয়াজের দাম কমাতে সরকার মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলে। একইসঙ্গে দেশীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং জোরদার করা হয়। সে সঙ্গে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই মিয়ানমার থেকে প্রচুর পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সেখান থেকেও বাংলাদেশে কয়েক টন পেঁয়াজ আসে। এতে করে গত সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু গত তিন/চার দির ধরে আবারো পেঁয়াজের দাম বেড়ে আবারো ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে ভারত সরকার গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইজ (এমইপি) নির্ধারন করে দেয়। আগে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের আমদানি দাম ২৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার থাকলেও গত ১৩ সেপ্টেম্বর তা বাড়িয়ে ৮৫০ মার্কিন ডলার পূর্ণনির্ধারণ করে দেয়। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পুরোপুরি পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে। এতে করে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রতিবছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৪ লক্ষ মেট্রিক টন। এর মধ্যে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন হয়েছে ২৩ দশমিক ৭৬ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বছরে ৮ থেকে ৯ লাখ মেট্রিক চন পেঁয়াজ ঘাটতি থাকায় তা আমদানি করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জিএস/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন