বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টর্চারসেল বানিয়েছে ছাত্রলীগ: মওদুদ

অক্টোবর ১৫, ২০১৯ | ২:৪৪ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ছাত্রলীগের নির্যাতন থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের জন্য টর্চারসেল বানিয়েছে ছাত্রলীগ। আর তারই বলি মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার প্রতিবাদে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘এই সরকার জবাবদিহিতাহীন সরকার। জবাবদিহিতা না থাকার কারণেই আজ এই নৈরাজ্য, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি চলছে।’

তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে এই ছাত্রলীগ, যুবলীগ তাদের নৈরাজ্যে দেশের মানুষ জর্জরিত। আজ আমাদের সময় এসেছে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার। আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছেন ঠিকই কিন্তু তিনি প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন বাংলাদেশে যদি ভিন্ন মত অবলম্বন করা হয় তবে তাকে হত্যা পর্যন্ত করতে তারা কার্পণ্য করে না। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের জন্য ছাত্রলীগ টর্চার সেল গঠন করেছে। তার প্রমাণ শহীদ আবরার।

তিনি আরও বলেন, এই সরকার যত দ্রুত ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবে দেশের জন্য ততই মঙ্গল। সেজন্য আমরা দাবি করব, অবিলম্বে এই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। এবং একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দেশের মানুষ যাতে সভ্যতার সাথে বসবাস করতে পারে সেই সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা আত্মহত্যার সামিল। এখন দেশে কোনো ছাত্ররাজনীতি নেই বললেই চলে। তাই সেটা বন্ধের কথা বলা হচ্ছে। আজ যদি ছাত্ররাজনীতি থাকত তবে তা বন্ধের কথা উঠত না। বরং ছাত্ররাজনীতির নামে ছাত্রলীগের যে অপরাজনীতি হচ্ছে সেটা বন্ধ করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতকে পানি দিয়ে দিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার যখন পানি খেতে চেয়েছিলেন, পানির তৃষ্ণায় বমি করেছিলেন তখন তো আপনি এক ফোঁটাও পানি দেননি।

স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়অরম্যান ফরিদুজ্জামান রেজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন