শুক্রবার ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

তুরস্ক-সিরিয়ার সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখবে রাশিয়া

অক্টোবর ১৫, ২০১৯ | ১১:২৮ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে চলমান সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখবে রাশিয়া। সিরিয়ার সীমানায় প্রবেশ করে তুরস্কের এই ধরণের ঔদ্ধত্য কিছুতেই সহ্য করা হবে না। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে সিরিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূত অ্যালেক্সান্ডার লেভরিয়েন্তিয়েভ এই মন্তব্য করেন। খবরে জানিয়েছে বিবিসি।

বিজ্ঞাপন

গত সপ্তাহ থেকে সিরিয়ায় তুরস্কের অভিযান শুরু হওয়ার পর, এই প্রথম সিরিয়ান নেতা বাশার আল আসাদের অন্যতম সামরিক মিত্র রাশিয়ার পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল কেউ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করলেন।

আরও পড়ুন-কুর্দি ও সিরিয়া সরকারের সমঝোতা, একসাথে লড়বে তুরস্কের বিরুদ্ধে

বিজ্ঞাপন

এর আগে, সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সঙ্গেসঙ্গেই তুরস্কের সামরিক বাহিনী সিরিয়া আক্রমণ করে। তারা সিরিয়ার অভ্যন্তরে ৩১ কিলোমিটার পর্যন্ত দখল করে নেয় এবং ওই এলাকাকে মুক্তাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। মুক্তাঞ্চল তৈরি করার মাধ্যমে তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া সিরিয়ান শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে চায় দেশটি। কুর্দিদের পক্ষ থেকে মার্কিন সৈন্যদের স্থানত্যাগের পর  তুরস্কের এই সামরিক অভিযানকে পেছন থেকে ছুরি মারার সাথে তুলনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন-তুর্কি হামলায় বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে যাচ্ছে আইএস জঙ্গিরা

নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে তুর্কি বাহিনী মূলতঃ স্থানীয় কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) বিরুদ্ধে অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই কুর্দিরা কিছুদিন আগেও মার্কিন সেনাবাহিনীর সাথে মিলে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে লড়াই চালিয়ে আসছিল। সিরিয়ানরা আশঙ্কা করছেন, সাম্প্রতিক অভিযানের ধোঁয়া তুলে তুরস্ক কুর্দিদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে চাইছে।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, ইতোমধ্যেই কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। আতঙ্কে ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার সিরিয়ান। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা সিরিয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। সিরিয়া ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন ওই ত্রাণ সংস্থার কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন- তুরস্কের অভিযানে সিরিয়ায় গৃহহীন লক্ষাধিক মানুষ

এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ায় রাশিয়ান সৈন্য মোতায়েন করা আছে। বর্তমান সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতিতে রাশিয়ানকে সেনাবাহিনীকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলমান অভিযানের ব্যাপারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, তার দেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সিরিয়ায় অভিযান চলবে। যদি সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তুরস্কের বিপরীতেও অবস্থান নেয়, তবুও তারা পিছপা হবে না।

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ উপেক্ষা করে সিরিয়ায় অভিযান চালানোর জের ধরে তুরস্কের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো।

আরও পড়ুন-সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্কে অস্ত্র রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে জার্মানি

আরও পড়ুন- তুরস্কের অর্থনীতি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন