মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করতে সফরে বের হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অক্টোবর ১৫, ২০১৯ | ১১:২৫ অপরাহ্ণ

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কমবেশি ১০ দিনের সফরে বের হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। আসন্ন এই সফর জার্মানির বার্লিন দিয়ে শুরু করে ফ্রান্সের প্যারিস হয়ে আজারবাইজানের বাকুতে গিয়ে শেষ হবে। অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেওয়াই এই সফরের মূল লক্ষ্য। অর্থনীতি খাতের বিশেষ একটি দল সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বুধবার (১৬ অক্টোবর) বার্লিনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। সেখানে জার্মানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাড়াও একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। জার্মানিতে ‘বাংলাদেশ ফোরাম’ নামে প্রবাসীদের একটি সংগঠন রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে সংগঠনটি বহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বার্লিনে অর্থনীতির ওপর একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে। যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। ওই সেমিনারে প্রবাসীরাসহ জার্মানির অনেক বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে কী কী সুবিধা মিলবে; সরকার বিদেশি বিনিয়োকারীদের কতটুকু ছাড় দিচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা কতোটুকু নিরাপদ- সেমিনারে এই বিষয়গুলো তথ্য-উপাত্তসহ উপস্থাপন করা হবে। ওইদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানির ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলসহ বেসরকারি পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সবগুলো বৈঠকেই প্রাধান্য পাবে অর্থনৈতিক কূটনীতি।

কূটনৈতিক সূত্র আরও জানায়, শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেকো মাসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন আবদুল মোমেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। এর পর তিনি বৈঠক করবেন জার্মানির বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে। একইদিন জার্মানির গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেতে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে জার্মানির ২৩ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল গত ৮ থেকে ১২ সেপ্টম্বর বাংলাদেশ সফর করে। এ সম্পর্কে জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ বলেন, ‘২২ বছরের ইতিহাসে এবারেই প্রথম জার্মানির উচ্চপর্যায়ের কোনো ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সফর করেছেন। জার্মানি বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগানো।’

রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ আরও বলেন, ‘এশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ উদয়ীমান টাইগার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। আমি প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছি যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবসা-বান্ধব সহজ পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। কেননা ১৯০টি দেশের মধ্যে ব্যবসা বান্ধব সহজ পরিবেশ র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। এই পরিস্থিতির উন্নতি করা প্রয়োজন।’

জার্মানি সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০ অক্টোবর ফ্রান্সের উদ্দেশে বার্লিন ছাড়বেন। মূলত ফ্রেন্স সিনেট টিমের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারিস সফরে যাচ্ছেন। প্যারিস সফরেও আবদুল মোমেনের মূল উদ্দেশ্য থাকবে বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো। ফ্রান্সের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কাজ করছে ফ্রেন্স সিনেট টিম।

ফ্রান্স সফর শেষে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে ২২ অক্টোবর আজারবাইজানের উদ্দেশে প্যারিস ছাড়বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাকুতে ন্যাম সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাইডলাইনে একাধিক বৈশ্বিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. এ কে আবদুল মোমেন। ন্যাম সম্মেলন শেষে ২৭ অক্টোবর তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ড. এ কে আবদুল মোমেন গত ৭ জানুয়ারি শপথ নেন। শপথ নেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছেন তা বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোড় দেবেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক কূটনীতির রূপরেখা বাস্তবায়নে যে রোডম্যাপ তৈরি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তার অংশ হিসেবেই বার্লিন-প্যারিস-বাকু সফরে যাচ্ছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআইএল/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন