বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকারের ১৮ অডিট রিপোর্টে ১৫ কোটি টাকার আপত্তি!

অক্টোবর ১৫, ২০১৯ | ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮টি অডিট রিপোর্টে ১৫ কোটি টাকার আপত্তি উঠে এসেছে। বিপুল অঙ্কের টাকার এই আপত্তি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। অনিষ্পন্ন এই অডিট আপত্তিগুলোর ক্ষেত্রে জড়িত অর্থ দুই মাসের মধ্যে আদায় করে কমিটিকে অবহিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রুস্তুম আলী আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য মো. আব্দুস শহীদ, মো. আফছারুল আমীন, মো. শহীদুজ্জামান সরকার, সালমান ফজলুর রহমান, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, আহসানুল ইসলাম (টিটু), ওয়াসিকা আয়েশা খান ও মো. জাহিদুর রহমান বৈঠকে অংশ নেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্থানীয় ও রাজস্ব অডিট অধিদফতর প্রণীত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮টি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১১-১২ অর্থ বছরের হিসাব সম্পর্কিত বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট ২১০২-১৩-তে অন্তর্ভুক্ত ছিল এই ১৮টি অডিট আপত্তি।

উত্থাপিত ওই বার্ষিক অডিট রিপোর্টে যে ১৮টি অডিটে আপত্তি তোলা হয়, তার মধ্যে রয়েছে— হাট-বাজারের ইজারা মূল্যের ২০ শতাংশ ও ৫ শতাংশ সেলামি হিসেবে আদায় না করার কারণে আদায় করা অর্থ সরকারি খাতে জমা না করায় ৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে; ইজারা মূল্য ও ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন ফি এবং যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় না করায় ও কম আদায় করার কারণে রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৯১ রাখ ১৩ হাজার ৮৪ টাকা; ইজারা মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ আয়কর আদায় না করায় সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ায় ৭০ লাখ ৭১ হাজার ৮২৬ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে; ঠিকাদারের বিল থেকে আদায় করা আয়কর বাবদ ৬২ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না করায় রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে; ঠিকাদারের বিল থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বাবদ ১ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার ৪ টাকা কম আদায় বা আদায় না করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া, ইজারাদারের কাছ থেকে অনাদায়ী অর্থ আদায় না করায় সংস্থার ৬ লাখ ৭২ হাজার ৩৯৭ টাকা আর্থিক ক্ষতি; বিভিন্ন রশীদের মাধ্যমে আদায় করা অর্থ ও পৌরকর পৌর তহবিলে জমা না করায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৫ টাকা সংস্থার আর্থিক ক্ষতি; পৌর ফিলিং স্টেশন ও বাস টার্মিনাল ইজারা, বিজ্ঞাপনি সংস্থা, দোকান ও জমি, যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নকালে লাইসেন্স নেওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ আদায় না করায় সরকারের ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৯ টাকা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি; ঠিকাদারের মোট পরিশোধিত বিলের ওপর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় না করায় সরকারের ৬১ লাখ ৯৫ হাজার ৮২২ টাকা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি; ঠিকাদারের বিল ও বাস টার্মিনাল থেকে ৫ শতাংশ উৎসে আয়কর আদায় না করায় বা কম আদায় করায় সরকারের ৬৬ লাখ ৬০ হাজার ৬৬৮ টাকা রাজস্ব ক্ষতি; বিভিন্ন গাড়িতে সরবরাহ করা জ্বালানিজাত দ্রব্য (লুব্রিকেন্ট) বিলে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ যোগ করে পৌর ফিলিং স্টেশনকে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করায় সংস্থার ২৬ লাখ ১২ হাজার ৩৫৭ টাকা আর্থিক ক্ষতি; এবং ডেন্স বিটুমিনাস সারফেসিং (প্ল্যান্ট মেথড) প্রিমিক্স বিটুমিনাস প্রতি বর্গমিটার প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক বেশি হারে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করায় সংস্থার ৯ লাখ ২ হাজার ৯৪০ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে উঠে এসেছে অডিটে।

এর বাইরে গোমতি ফিলিং স্টেশনের নামে কোনো সিএনজি গ্যাস স্টেশন না থাকা সত্ত্বেও ওই ফিলিং স্টেশনের নামে বিভিন্ন গাড়ির সিএনজি গ্যাস কেনার খরচ দেখিয়ে বিল পরিশোধ করায় সংস্থার ৩ কোটি ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫৬ টাকা আর্থিক ক্ষতি; মিরপুর-গাবতলী গবাদি পশুর হাট থেকে ইজারা হিসেবে পাওয়া অর্থের ওপর ৫ শতাংশ অর্থ সেলামি বাবদ ‘৭-ভূমি রাজস্ব’ খাতে জমা না দেওয়ায় ৩৫ লাখ ৫ হাজার টাকা রাজস্ব ক্ষতি; শিডিউল রেটের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দরের আইটেমে কাজ করার ফলে ঠিকাদারকে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করায় ১৩ রাখ ৭৯ হাজার ৫৭১ টাকা আর্থিক ক্ষতি; এসিআই ফরমুলেশন লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও তাদের কাছ থেকে মশা নিবারক কীটনাশক অ্যাডালটিসাইড না কেনায় অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি; ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় অগ্রিম আয়কর আদায় না করায় ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা রাজস্ব ক্ষতি; এবং ইজারাদারদের কাছ থেকে ইজারা অনাদায় থাকায় সংস্থার ৯ রাখ ৮২ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির অডিট আপত্তির কথাও রয়েছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে।

সবমিলিয়ে ১৮টি অডিট আপত্তিতে মোট ১৫ কোটি ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ১৩ টাকার অঙ্ক বেরিয়ে এসেছে। এসব আপত্তি নিয়ে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রশ্নোত্তর ও জেরা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। কমিটি অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলোর ক্ষেত্রে জড়িত অর্থ দুই মাসের মধ্যে আদায় করে কমিটিকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন