সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চাঞ্চল্যকর মিলন হত্যা মামলা, পুলিশের এসআই কারাগারে

অক্টোবর ১৭, ২০১৯ | ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর কিশোর মিলন হত্যা মামলায় পুলিশের এসআই আকরাম শেখ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে, বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বাদী পক্ষের আইনজীবী কল্পনা রানী দাস জানান, বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে মামলার আসামী এসআই আকরাম শেখ জেলার ৫ নং আমলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানী শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহ আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে, তাকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। একই সাথে পলাতক ২১ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়নের লোকজন ২০১১ সালের ২৭ জুলাই ছয় ডাকাতকে পিটিয়ে হত্যা করে। কিশোর মিলন ঐদিন সকালে চর ফকিরা গ্রামের বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথে চর কাঁকড়া একাডেমি স্কুলের সামনে থেকে এলাকার লোকজন তাকে ডাকাত সন্দেহে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন। কোম্পানীগঞ্জের তৎকালীন এসআই মো. আকরাম শেখের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মিলনকে থানায় না নিয়ে ডাকাত সাজিয়ে চর কাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে পুলিশের গাড়ী থেকে নামিয়ে উত্তেজিত জনতার হাতে ছেড়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষুব্ধ জনতা নিরপরাধ কিশোর মিলনকে পুলিশের উপস্থিতিতে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনার কয়েকদিন পর মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিওচিত্রে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর গণমাধ্যমে উঠে আসে।

এনিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নোয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ওসি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মামলায় তদন্তে ভিডিও চিত্র দেখে হত্যার ঘটনায় শনাক্ত হওয়া ২৮ ব্যক্তি ও চার পুলিশ সদস্যসহ ৩২ জন আসামির সবাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে নোয়াখালীর ২ নং আমলী আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল) রিপোর্ট দাখিল করেছিলেন।

পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্ত শেষে গত ৯ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মদ নোয়াখালীর ২ নং আমলী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যাতে চর কাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন সদস্য জামাল উদ্দিন, তার সহযোগী মিজানুর রহমান মানিকসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়।

অপর দিকে, ৭ জন জামিনে, আর বাকি ২০ জন পলাতক। কিন্তু এই অভিযোগপত্রেও কোনো পুলিশ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর ওই অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে শুনানী শেষে বিচারক হত্যার সময় উপস্থিত থাকা কোম্পানীগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই আকরাম শেখকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন