সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

৫ বছরেও চালু হয়নি দীঘিনালার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র

অক্টোবর ১৭, ২০১৯ | ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

জসিম মজুমদার, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

খাগড়াছড়ি: বৃষ্টিপাত, পাহাড় ধসের পূর্বাভাস, কৃষি পূর্বাভাস ও আর্দ্রতাসহ আবহাওয়ার তথ্য তিন ঘণ্টা পর পর ঢাকায় পাঠানো এবং পার্বত্য অঞ্চলে আবহাওয়া উপযোগী চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় স্থাপন করা হয়েছে আবহওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে কেন্দ্রটি পাঁচ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আবহওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র দুজন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। তারপরও বর্তমানে সেখানে বিনা বেতনে কাজ করছে চর্তুথ শ্রেণীর কয়েকজন কর্মচারী।

তাদেরই একজন বাবু ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় আড়াই বছর চাকরি করেছি। মেয়াদ শেষ হয়েছে দুমাস হলো। তারপরও এখন বিনা বেতনে চাকুরি করছি। আশায় আছি, যদি লোকবল নিয়োগ দেওয়ার সময় আমাদের কথা বিবেচনা করা হয়।’

বিজ্ঞাপন

২০১৪ সালে আবহাওয়া কেন্দ্রের দুটি পাকা ভবন নির্মাণসহ আবহাওয়া পরিমাপক যন্ত্র বসানো হয়। এরপর কেবল উচ্চ পর্যবেক্ষক ও পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মকর্তা দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। জনবল না থাকায় অযত্নে পড়ে আছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র। এছাড়া চুরি হয়ে গেছে সোলার প্যানেল।

দীঘিনালা আবহওয়া কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক শুবোধি চাকমা বলেন, ‘আবহওয়ার তথ্য নিয়মিত কেন্দ্রীয় অফিসে পাঠানোর কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে তা পারছি না। দ্রুত সময়ে জনবল নিয়োগ দিলে আমরা কেন্দ্রটি চালু করতে পারব।’

আবহওয়া কেন্দ্রের উচ্চমান পর্যবেক্ষক ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, ‘কেন্দ্রটি চালু হলে অতি ভারী বর্ষণ, শৈত্য প্রবাহ, পাহাড় ধসের পূর্বাভাস, কৃষকদের জন্য কৃষি পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়া যাবে। কিন্তু জনবল ও অবকাঠামো সংকটের কারণে আবহাওয়া কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর জনবল নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। জনবল নিয়োগ দিলেই কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু হবে।’

জনবলের অভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে আবহাওয়া কেন্দ্রটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

দীঘিনালার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, ‘আবহাওয়া কেন্দ্রে ৮ জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র দুজন। জনবলের অভাবে আবহাওয়া কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হয়নি। কেন্দ্রটির কার্যক্রম দ্রুত চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘আবহাওয়া কেন্দ্রটি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। জনবল নিয়োগসহ সব সমস্যা নিরসনে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হবে।’

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫ কোটি ব্যয়ে আবহাওয়া কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৪ সালে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন