সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

কংক্রিটের জঙ্গলে সবুজের ছোঁয়া

অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

এক টুকরো বাগান- ইট পাথরের নিষ্প্রাণ শহরে সবুজের ছোঁয়া। যার বাগান করার শখ থাকে তার জন্য জায়গা যেন কোন বাধাই না, সামান্য একটুখানি জায়গা পেলেও গড়ে তোলেন শখের বাগান। এভাবেই তারা খুঁজে পান প্রকৃতির সঙ্গে সখ্যতা। নিজের হাতে গড়ে তোলা এক টুকরো বাগান মনকেও রাখে ফুরফুরে।

বিজ্ঞাপন

আমার কাছে, বাগান করার জন্য ভেতরের ইচ্ছা ও সৌন্দর্যবোধই যথেষ্ট। নির্মল আনন্দের উৎস খুঁজতে গিয়েই বাগান করার প্রতি আগ্রহ পেয়েছি। তাই আমার বাসার ছাদ, বারান্দা ও ঘরের অনেক জায়গায় গাছ লাগিয়েছি। এদের পরিচর্যাই এখন আমার নিত্যদিনের কাজ।

সবুজের ছোঁয়া

আমার স্ত্রীও বাগান করতে ভালবাসেন। বাসার প্রতিটি ঘরের বেশ কিছু জায়গায় তিনি নানা ধরনের গাছ লাগিয়েছেন। কোথাও ফুলের, কোথাও বা অন্দরসজ্জার গাছ বাসার পরিবেশটাই পাল্টে দিয়েছে যেন। এগুলো দেখে আমারও খুব ভালো লাগতো। এভাবেই শুরু হয় বাগান করার শখ। এরপর আমি বাসার ছাদে গাছ লাগাতে শুরু করি।

বিজ্ঞাপন

আমার ছাদবাগানে নানা ধরনের ফল ও ফুলের গাছ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নানা ধরনের শাক-সবজির গাছ। বাগানের তাজা শাক-সবজি খাওয়ার মধ্যে রয়েছে অন্যরকম একটা আনন্দ। বাজারের কেনা সবজি থেকে এসব সবজির স্বাদ ও গুণগত মান একদম আলাদা। কচু শাক, লাল শাক, পালং শাক, পুঁই শাক, লাউ শাক, শিম, বরবটি, বেগুন, চিচিঙ্গা, লাউ, টমেটো, ঢেড়স, কাঁচা মরিচ, ধনে পাতাসহ নানা জাতের সবজিতে ভরপুর আমার ছাদবাগান। ভালো রোদ পায় বলে ছাদে মৌসুমি সবজির উৎপাদনও প্রচুর।

সবুজের ছোঁয়া

‘পথপাশে দুই ধারে/ বেলফুল ভারে ভারে/ ফুটে আছে, শিশুমুখে প্রথম হাসি প্রায়…'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমিও বলি, ফুলগাছ আমার কাছে শিশুর প্রথম হাসির মতো নির্মল। তাই নানারকম ফুলগাছে আমার ছাদবাগান সাজিয়ে রেখেছি। ক্যাকটাস, কয়েকটি রঙের গোলাপ, গন্ধরাজ, গাঁদা, বেলি, হাসনাহেনা, কামিনী, রক্ত জবা, ঝুমকো জবা, জারবেরা, ভবন বিলাস বাগানের শোভা বাড়িয়েছে।

সবুজের ছোঁয়া

কর্মব্যস্ততা যতই থাকুক গাছের যত্ন নেওয়া বাদ পড়ে না কখনোই। প্রতিদিন দুইবেলা গাছে পানি দিই। আগাছা পরিষ্কার, সার ও কীটনাশক দেওয়াসহ বাগানের ভারী কাজগুলো ছুটির দিনের জন্য রেখে দেই। আমার স্ত্রীর পরামর্শ, প্রতিবেশিদের অনুপ্রেরণা, বাসার তত্ত্বাবধানকারী (কেয়ারটেকার) ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতার ফলে বাগানের সব কাজ করা আমার পক্ষে অনেক সহজ হয়েছে।

সবুজের ছোঁয়া

ছাদবাগানে বারোমাসি ও মৌসুমি ফলের চাষ করি। কামরাঙ্গা, আমলকি, লেবু, পেঁপে, ডালিম, আনার, জামরুল, বরই, আম, সফেদা- ঋতু অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ফলের চাষ হয় আমার ছাদবাগানে। তবে ছাদবাগানে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা ভালো, ফুল, ফল কিংবা সবজি যা-ই হোক, গাছের টব সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। ভালো মানের প্লাস্টিক, মাটি কিংবা মাটির টব ব্যবহার করতে হবে। বড় প্রজাতির গাছের জন্য টিনের ড্রাম বা টব বেছে নেওয়াই ভালো। যাতে গাছ বড় হলে শিকড় ছড়াতে অসুবিধা না হয়।

সবুজের ছোঁয়া

গাছে পানি দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত জৈব সার, গোবর সার ও কীটনাশক স্প্রে করি। ছাদবাগান করার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো, মাটি তৈরি করে নেওয়া। মাটি হতে হবে ঝুরঝুরে এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিয়মিত জৈব সার দেওয়ার মাধ্যমে গাছের পরিপূর্ণ পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই গাছে অতিরিক্ত পানি দেন। এতে গাছের গোড়া নরম হয়ে পচে যায়। গাছে অতিরিক্ত বা একেবারে কম পানি দেওয়া যাবে না। সঠিক পরিমাণে পানি দিতে হবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে ছাদবাগান করেছি।

সবুজের ছোঁয়া

বাগানের শোভা আমার ঘর ছুঁয়ে রেখেছে। বাগান আমার ঘরের মতো, আর ঘরটা আমার বাগানের মতো। এই দুইয়ের মধ্যে কখনও পার্থক্য করিনা। বাগান পরিচর্যার মতো জীবনের অন্যান্য কাজগুলোও ভালোভাবে করার চেষ্টা করি।

লেখক- মহাব্যবস্থাপক, বিজ্ঞাপন ও বিপণন বিভাগ, দৈনিক সমকাল।

 

বাগান বিলাস মেইল

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিসি/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন